নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক তারেক রহমানকে নির্যাতনের ছবি, ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য

ফেসবুকে ছড়ানো ছবিগুলো তারেক রহমানকে নির্যাতনের নয়

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দুটি ছবি ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবিগুলো তাকে নির্যাতন করার নয়। একটি ছবি ২০০৭ সালে পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের ঘটনার। আর অন্যটি চীনে পুলিশি নির্যাতনের।

ফেসবুকে তারেক রহমান নামে পরিচালিত একটি গ্রুপ থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা, “মেঝেতে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান জনাব তারেক রহমান।” ছবিটিতে এক ব্যক্তিকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখতে দেখা যায়। একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক (,,,) গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও ছবিটি শেয়ার করা হয়। ইনস্টাগ্রামের একটি প্রোফাইল থেকেও ছবিটি শেয়ার করা হয়। 

ফ্যাক্টচেক তারেক রহমানকে নির্যাতনের ছবি, ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদন পায়। ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “চুরির অভিযোগে আটক রতনকে গত বৃহস্পতিবার বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসারের রুমে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে, পুলিশ তাকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।” 

ফ্যাক্টচেক তারেক রহমানকে নির্যাতনের ছবি, ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য
প্রকৃত ছবি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের ক্রিনশট।

আরেকটি ছবি ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে পোস্ট করে লেখা হয়, “মেঝেতে উনি কে পড়ে আছেন দেখুনতো? মেঝেতে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান জনাব তারেক রহমান।” 

ফ্যাক্টচেক তারেক রহমানকে নির্যাতনের ছবি, ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ছবির উৎস যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে চীনের একটি স্বেচ্ছাসেবক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদনে ছবিটিকে ২০০২ সালে চীনে পুলিশের হাতে এক ব্যক্তির নির্যাতনের শিকার হওয়ার দৃশ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। 

ফ্যাক্টচেক তারেক রহমানকে নির্যাতনের ছবি, ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য
প্রকৃত ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া দুটি ছবিই ভিন্ন ঘটনার। 

আরো কিছু লেখা