নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক টাঙ্গাইলে নারী ও নবজাতক হত্যাকাণ্ডে আটকের দাবিতে ছড়াচ্ছে ভিন্ন ঘটনার ছবি

টাঙ্গাইলে নারী ও নবজাতক হত্যাকাণ্ডে আটকের দাবিতে ছড়াচ্ছে ভিন্ন ঘটনার ছবি

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

একাধিক সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, গত ২০ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নারী ও নবজাতককে হত্যার দায়ে আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। যাচাইয়ে দেখা যায়, ছড়ানো ছবিটি ২০২২ সালে টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের দৃশ্যের। 

ফেসবুকের “বাংলাদেশ আর্মি লাভার” নামের একটি গ্রুপ থেকে গত ২৮ এপ্রিল একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ জঘন্য অপকর্ম কারি আসামি যে পেটে বাচ্চা সেই মহিলাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক হন, আদালত থেকে তাদেরকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়।”

ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ছবিসহ (উপরের ছবি) ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ছবিটির ভেতরে লেখা, “পেটে বাচ্চা সেই মহিলাকে দর্শন তারা পুলিশের হাতে আটক আদালত থেকে ফাশির রায় দিলো আলহামদুলিল্লাহ” (বানান অপরিবর্তিত)। ছবির এক অংশে দেখা যায়, একাধিক পুলিশ সদস্যের মাঝে তিনজন অভিযুক্ত দাঁড়িয়ে আছেন। অভিযুক্তদের ওপর ফাঁসির দড়ি সদৃশ বস্তু দেখা যায়। পেছনের গেটে “পুলিশ সুপারের কার্যালয় পিবিআই, টাঙ্গাইল” লেখা দেখা যাচ্ছে। ছবিটির আরেক অংশে এক নারীকে মাটিতে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। 

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, গ্রুপ, পেজ (, , , , , ) এবং ইনস্টাগ্রামের একাধিক (, , ) প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়। 

সত্যতা যাচাইয়ে আটককৃত ব্যক্তিদের অংশটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০২২ সালের ৬ জুন ঢাকা টাইমস২৪-এর একটি প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির হুবহু মিল রয়েছে। এ প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “টাঙ্গাইলে শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ৩।” প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক শিশু শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত একাধিক (, , , ) প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সব প্রতিবেদনেই অভিযুক্তদের আটকের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি দেখা যায়।

ফ্যাক্টচেক টাঙ্গাইলে নারী ও নবজাতক হত্যাকাণ্ডে আটকের দাবিতে ছড়াচ্ছে ভিন্ন ঘটনার ছবি
মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ছবিটির আরেক অংশে থাকা নারীর দৃশ্যটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ফেসবুকের একাধিক ছবি এবং ভিডিও সামনে আসে যেখানে নারীটিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে উদ্ধারকৃত নারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লৌহজং নদীর পাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দী অবস্থায় নবজাতকসহ এই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে (সংবেদনশীল দৃশ্য হওয়ায় পোস্টের লিংক সংযুক্ত করা হয়নি)। 

প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দী অবস্থায় নবজাতকসহ এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের ময়নাতদন্ত করে চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২৬ এপ্রিলের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নারী ও শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অর্থাৎ, টাঙ্গাইলে নারী ও নবজাতকের হত্যার দায়ে আটকের দাবিতে ছড়াচ্ছে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি। 

আরো কিছু লেখা