তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্ট চেক নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়ানো ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির একাধিক ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিও ও ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন সদৃশ একটি স্থানে ফিলিস্তিনের পতাকা গলায় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জর্জিয়া মেলোনি। তার পাশেই নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হাত বাড়ালেও হাত না মিলিয়েই স্থান ত্যাগ করেন মেলোনি। ভিডিও-এর ক্যাপশনে লেখা, “ইতালির প্রেসিডেন্ট মেলোনি”, “ফিলিস্তিনের পতাকা গলায় নিয়ে নেতানিয়াহুর সাথে হাত মিলাতে নাকোচ।”

ভিডিওটি এ পর্যন্ত আড়াই হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। পোস্টদাতা নিজেই মন্তব্যে লিখেছেন, “নেতানিয়াহুর সাথে হাত না মিলিয়ে স্থান ত্যাগ করলেন ইতালির প্রেসিডেন্ট মেলোনি। ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে মেলোনির নাম। যিনি একজন নারী হয়েও অন্যায় কে অন্যায় বলার সাহস রাখেন।”

এই ভিডিও থেকে নেওয়া একাধিক ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে একই দাবিতে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “শরীরে ফিলিস্তিনের পোশাক জড়িয়ে নেতানিয়াহুর খুব কাছাকাছি ইতালির প্রেসিডেন্ট জর্জিয়া ম্যালোনি , নেতানিয়াহু সাক্ষাতের জন্য নিজের হাত বাড়িয়ে দেন কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাত না মিলিয়েই স্থান ত্যাগ করেন ম্যালোনি।” (বানান অপরিবর্তিত) 

ফ্যাক্ট চেক নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ছবি ও ভিডিওসহ ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি দুই শতাধিকবার শেয়ার হয়েছে, ব্যবহারকারীরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “প্রসিডেন্ট মেলোনি নেতা নিয়াহুকে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।গভীর শ্রদ্ধা মেলোনি আপুকে।” (বানান অপরিবর্তিত) আরেকজন লিখেছেন, “বিশ্বের শান্তি মিশনের প্রধান এই ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে বানানো উচিত।”

পর্যবেক্ষণে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। জর্জিয়া মেলোনির গলার পতাকার অর্ধেক ফিলিস্তিনের পতাকার সঙ্গে মিললেও বাকিটা সুদানের পতাকার মতো। তাছাড়া পতাকায় আরবিতে যে লেখা দেখা যায় তার কোনো প্রাসঙ্গিক অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। একটি ছবিতে মেলোনির হাতের খানিকটা অংশ অস্বাভাবিক হয়ে যেতে দেখা যায়।

এআই ডিপফেক শনাক্তকরণ টুল ডিপওয়ার ভিডিওটিকে “সন্দেহজনক” বলে জানিয়েছে। একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল যেমন হাইভ মডারেশন,এআই অর নট দিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে, এই ছবি-ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল। ডিপফেক-ও-মিটার জানিয়েছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

  • ফ্যাক্ট চেক নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো
  • ফ্যাক্ট চেক নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো
  • ফ্যাক্ট চেক নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো

তাছাড়া সর্বশেষ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন বসেছে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। সে অধিবেশনের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়ানোর, কিংবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাত না মেলানোর কোনো সংবাদ গণমাধ্যমে আসেনি। এর আগে ভিডিওটি যাচাই করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ও ভারতভিত্তিক (, ) একাধিক সংবাদমাধ্যম।    

অর্থাৎ, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাত না মেলানোর এসব দৃশ্য এআই দিয়ে বানানো।

আরো কিছু লেখা