
এইচএসসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, পোস্টে ব্যবহৃত রক্ত ও গুলির ছবিটি পুরোনো এবং ভিন্ন একটি ঘটনার। পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী নিহতের দাবিও ভিত্তিহীন।
ফেসবুকে ‘মো. জাহিদুল ইসলাম’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৪ জুলাই পাঁচটি ছবিসহ একটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত, আহত ১৩ জন। ১৪/০৭/২০২৬ ইংরেজি।” এর মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যায়, পিচঢালা রাস্তায় রক্তের মধ্যে মোবাইল ও গুলির খোসা সদৃশ কিছু বস্তু পড়ে আছে। ‘মো. জাহিদুল ইসলাম’ প্রোফাইলে পেশা হিসেবে উল্লেখ আছে, “সাবেক সদস্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ।”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, পোস্টটি ৮০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। প্রতিক্রিয়া এসেছে আড়াই শ-এর বেশি। ফেসবুকে আরও একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই ধরনের পোস্ট করতে দেখা যায় (১, ২, ৩, ৪, ৫)।
সামাজিক মাধ্যম এক্সেও (সাবেক টুইটার) একই ছবি ব্যবহার করে ‘এ এইচ এম তারিক’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করা হয়। তবে এই পোস্টের ক্যাপশনে ৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে, “রক্তাক্ত ঢাকায় ৯ শিক্ষার্থী নিহত! ১৫ জন কে তুলে নিয়ে গেছে এদের কোন খুজ পাওয়া যাচ্ছে না।”
সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স সার্চ করা হলে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্ট ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। ‘আফজাল হুসাইন’ নামের প্রোফাইল থেকে করা ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “নিলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে হুট করে এভারগ্রিন কারখানা বন্ধ করায় শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে যৌথ বাহিনীর গুলিতে এক নি হ ত হয়। তিব্র নিন্দা জানিয়ে গেলাম। হোক প্রতিবাদ!”

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর করা একই ছবিযুক্ত আরও একাধিক পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায় (১, ২, ৩)। সবগুলো পোস্টেই ছবিটিকে নিলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে যৌথ বাহিনীর গুলির ঘটনার বলে জানানো হয়।
অধিকতর যাচাইয়ে, নির্দিষ্ট সময়সীমায় প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে, একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায় (১, ২, ৩)। সবগুলো প্রতিবেদনেই জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর “নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।” সংবাদমাধ্যম আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে একটি ছবি পাওয়া যায়, যা সম্প্রতি ছড়ানো ছবির সম্পাদিত ও ঝাপসা করে দেওয়া সংস্করণ। সেখানে রক্তের মধ্যে গুলির খোসা সদৃশ বস্তু পড়ে থাকার হুবহু একই অংশটুকু দেখা যায়।
অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার জেরে গত ১৪ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। ডিসমিসল্যাব প্রাসঙ্গিক একাধিক কিওয়ার্ড সার্চে এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদনে পুলিশের গুলি চালানো বা কোনো শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, দুই শিক্ষার্থী নিহত ও ১৩ শিক্ষার্থী আহতের দাবিতে ছড়ানো পোস্টে রক্ত ও গুলির খোসা পড়ে থাকা ছবিটি পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার এবং দুই শিক্ষার্থী নিহত ও আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালানোর দাবিটিও ভিত্তিহীন।