ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের পুলিশ মুসলিম যুবকদের ঘরে গিয়ে তাদের মারধর ও হেনস্থা করছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার দৃশ্য নয় বরং এক কনটেন্ট নির্মাতার সাজানোর ভিডিওর দৃশ্য।
এমডি আসাদুল ০২ (MD Asadul 02) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশে দেখা যাচ্ছে, একটি কক্ষের ভেতর হলুদ টি-শার্ট ও মাথায় টুপি পরা এক যুবককে দুইজন পুলিশ মারধর করছে। অন্যদিকে পোস্টদাতা নিজেই ভিডিওতে কথা বলছেন। তিনি একটি অংশে বলছেন, “দেখুন ভারতে নাস্তিকের বাচ্চা নাস্তিকেরা আমার মুসলমান ভাইদের ওপর কতটা অত্যাচার করতেছে! আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা ঘরের ভিতরে নামাজ পড়তেছে, সেই ঘরের ভিতরে যাইয়াও তাদেরকে মারপিট করতাছে, তবে আমাদের আল্লাহ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না।” (লেখা অপরিবর্তিত) ক্যাপশনে পোস্টদাতা লেখেন, “🤔😱😭😭ভারতে ঘরে নামাজ পড়ে শান্তি পাচ্ছেন আমুসলিম”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ১২ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং পাঁচশর এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স সার্চ করলে আশু কারাভ (Ashu Kharb) নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি চলতি বছরের ৩০ আগস্ট এই অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হতে দেখা যায়। পোস্টে ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’, ‘রিল’, ‘ট্রেন্ডিং নাও’, ‘শর্টস’ ইত্যাদি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। ২২ সেকেন্ডের ভিডিওর দৃশ্য, ঘটনা, ব্যক্তি, তাদের পোশাক ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-এর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বিশ্লেষণ করলে ডিসমিসল্যাব দেখতে পায়, চ্যানেলটি থেকে প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। একই ব্যক্তিদের অভিন্ন পোশাকেও একাধিক ভিডিওতে (১, ২, ৩) দেখা যায় যেখানে তারা অভিনয় করছেন। এই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এর ইন্ট্রো থেকে জানা যায়, এটি ভারতের এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের অ্যাকাউন্ট। অ্যাকাউন্টটির বায়োতে এসব ভিডিওকে বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন সেই ব্যক্তি।
অধিকতর যাচাইয়ে তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলও পর্যালোচনা করে দেখে ডিসমিসল্যাব। সেখানেও দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরে একাধিক ভিডিওতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে তারা অভিনয় করছেন। ফেসবুক পেজে আশু কারাভকে দ্বারকাভিত্তিক একজন কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে পোস্ট করা সব ভিডিও তার টিমের তৈরি এবং শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে সেসব প্রকাশ করা হয় বলে জানানো হয় তার পরিচালিত সামাজিক মাধ্যমের বিবরণে।

অর্থাৎ, ভারতে কয়েকজন পুলিশ কর্তৃক মুসলিম যুবকের ওপর নির্যাতনের দাবিতে প্রচার করা ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয়। এটি ভারতীয় কনটেন্ট নির্মাতার তৈরি সাজানো ভিডিওর দৃশ্য যা বিনোদনের উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছিল।

