সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
CNG carried on shoulders to save pregnant woman fact-check

সংবাদমাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সিএনজি কাঁধে তুলে পার করার ভুয়া দাবি প্রচার

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

চট্টগ্রামে বন্যার প্রবল স্রোত থেকে এক গর্ভবতী নারী এবং তার সন্তানকে বাঁচাতে সিএনজি কাঁধে তুলে পার করছেন কয়েকজন মানুষ। এমন দাবিতে একাধিক ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি একটি সংবাদমাধ্যমেও এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার এই ঘটনায় সিএনজির ভেতরে কোনো অন্তঃসত্ত্বা ছিল না।

ফেসবুকে একটি পেজ থেকে গত ৯ জুলাই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন ব্যক্তি প্রবল স্রোতের মধ্যে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে বাঁশের পাটাতনের উপর বসিয়ে কাঁধে তুলে খাল সদৃশ একটি জায়গা পার হচ্ছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “সিএনজি কাঁধে তুলে নিয়ে গর্ভবতী মা ও শিশু’কে বাঁচালেন!! আলহামদুলিল্লাহ!!🫡❤️” এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত, ভিডিওটি ৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ৯৬৬ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সাড়ে ৩২ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকে (, , , ) একই দাবিতে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

CNG carried on shoulders to save pregnant woman fact-check
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

অন্যদিকে আজ, ১০ জুলাই ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে সিএনজি দিয়ে পারাপারের একাধিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “সিএনজি কাঁধে তুলে নিয়ে গর্ভ’বতী মা ও শিশু’কে বাঁচা’লেন!! আলহামদুলিল্লাহ!!🫡❤️ গর্বিত চট্টগ্রামের মানুষ”।

ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ (, , , , , ) এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ছবিগুলো প্রচার করা হয়।

বৈশাখী টিভি নিউজের ইউটিউবে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়, “বন্যায় গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে কাঁধে তুলে সিএনজি পার!” এছাড়া একাধিক ইউটিউব চ্যানেল (, , ,) এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও ( , , , ) বন্যায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিতে কাঁধে করে সিএনজি পারাপারের দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

CNG carried on shoulders to save pregnant woman fact-check
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন (বামে), ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ( মাঝে) এবং ইউটিউব ভিডিওর (ডানে) স্ক্রিনশট।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও প্রতিবেদন (, , ) সামনে আসে। সংবাদমাধ্যম ‘আমার দেশ’-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ৮ জুলাই প্রকাশিত ভিডিও শর্টসের শিরোনাম ছিল, “বৃষ্টিতে কাঁধে উঠলো সিএনজি”, ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিওর শেষ ৩২ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেদনের প্রথম অংশে ডাঙায় উঠিয়ে আনার পর সিএনজির ভেতরের অংশ দৃশ্যমান হয়, যেখানে সিএনজির ভেতরে কাউকেই দেখা যায় না। অর্থাৎ, একটি খালি সিএনজিকে পার করানো হচ্ছিল। তবে, প্রতিবেদনে ঘটনাটি কোন জায়গার, তা উল্লেখ করা হয়নি।

Locals Lift CNG with Pregnant Woman Inside in flood fact-check
সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব শর্টস থেকে প্রাপ্ত মূল ভিডিওর স্ক্রিনশট।

বিস্তারিত জানতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে (,, , , )। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ভিডিওটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার।

ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙাঝিরি খাল এলাকার। এছাড়া ভিডিওতে থাকা সিএনজিতে কোনো “ডেলিভারি রোগী” ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। 

In Chattogram Locals Lift CNG with Pregnant Woman Inside fact-check
মূল ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বাইশারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা-খুঁটাখালী ছড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তে খুঁটাখালী খাল অবস্থিত। সেখানে একটি সেতুর অভাব দীর্ঘদিনের। তাই দুর্ভোগে পড়ে স্থানীয় লোকজন কাঁধে করে সিএনজিটি পারাপার করেছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাগজিখোলা-খুঁটাখালী ছড়ায় একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। 

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁধে করে সিএনজি পার করানোর। তবে সিএনজির ভেতরে অন্তঃসত্ত্বা নারী থাকার দাবিটি সঠিক নয়।

আরো কিছু লেখা