
রাশেদ খানকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গণধোলাই দিয়েছে, দাবিতে একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি ২০২২ সালে রাশেদ খানকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনার। ২০২২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর বর্তমান এই বিএনপি নেতার ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করে জানানো হয়েছিল, নেত্রকোনায় গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান আল মামুনের বাড়িতে ছাত্রলীগ রাশেদ খানের ওপর হামলা করে।
ফেসবুকে “জনমত নিউজ” নামের একটি পেজ থেকে গত ৯ জুলাই বিএনপি নেতা রাশেদ খানের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “গণঅধিকার পরিষদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা রাশেদ খানকে গণ*ধোলাই দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা ।।” ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪) ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ছবিটি শেয়ার করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, রাশেদ খানের ফেসবুক পেজ থেকে ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে পোস্ট করা একটি ছবি পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা, “নেত্রকোনায় আবারও রাশেদ খান, হাসান আল মামুন, মাহফুজ, মনজুর মোর্শেদ, আতা, ইয়ামিনসহ নেতৃবৃন্দের উপর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাওনের নেতৃত্বে হা-ম-লা। হাসান আল মামুনের বাড়িতে তাকে পৌঁছে দিতে আসলে হাসান আল মামুনের বাড়িতে এসে এই হামলা করে ছাত্রলীগ। তারা এসে বলতে থাকে, রাশেদ কেন নেত্রকোনায় আসলো? ওকে আজকে লা-শ বানিয়ে ফেলা হবে।”

অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, ২০২২ সালেই “পরকীয়া করতে গিয়ে গণধোলাই এর শিকার রাশেদ খান”- দাবিতে ছবিটি প্রচার করা হয়। সে সময় তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলা হয়, ছবিটি ছাত্রলীগের হামলার। এছাড়াও ২০২৫ সালে ছবিটির একাধিক এআই সংস্করণ প্রচার হতে দেখা যায়। এ বিষয়ে রাশেদ খান ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি পোস্ট করেন। পোস্টের এক অংশে তিনি উল্লেখ করেন, “মূলত ২০২২ সালে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান আল মামুনের বাড়িতে গেলে, সেখানে আমার হামলা করতে আসে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। সেই সময়কার ঘটনার ছবি AI দিয়ে এডিট করে প্রচার করছে দুষ্কৃতকারীরা।” ২০২৫ সালে এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে তথ্যযাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
অর্থাৎ, রাশেদ খানকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গণধোলাই দিয়েছে, এমন দাবিতে ছড়ানো ছবিটি ২০২২ সালে রাশেদ খানকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনার।