সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Doctor beats female patient during BNP regime fact-check

বিএনপির আমলে হাসপাতালে নারী রোগীকে মারধরের দাবিতে ছড়াচ্ছে ভারতের ভিডিও

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের ওয়ার্ডে সবার সামনে এক নারীকে টানা চড় মারছে এক ব্যক্তি। দাবি করা হচ্ছে, এক মহিলা রোগীকে মারধর করছে এক চিকিৎসক। বিএনপি ক্ষমতায় আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে প্রচারিত ভিডিওতে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি এক বছরের পুরোনো এবং দৃশ্যটি ভারতের।

২০২৫ সালের ২৫ জুন প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে এক নারী রোগীকে মারধর করেন এক পুরুষ নিরাপত্তারক্ষী। সেখানে বলা হয়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৬ জুলাই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে এক নারীকে ক্রমাগত চড় দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। নারী পালটা মারতে গেলে, আবারও তাকে আঘাত করে ওই পুরুষ। আশপাশের কয়েকজন মহিলা ছুটে এসে ওই নারীকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “একজন ডাক্তারের কিভাবে রোগীর লগে আচরণ করলেন বিএনপির লোকেরা দেশটাকে মগের মুলুক পাইছে” (লেখা অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটি ৬০বার শেয়ার করা হয়েছে।

Female patient beaten by doctor under BNP rule fact-check
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং ইউটিউবেও নারী রোগীকে হাসপাতালের চিকিৎসক মারধর করছে- এমন দাবিতে সম্প্রতি ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

Doctor slapped female patient during BNP regime fact-check
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট (বামে)ও ইউটিউব ভিডিওর (ডানে) স্ক্রিনশট।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে, ভিডিওর কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৫ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদন (,,) সামনে আসে ডিসমিসল্যাবের। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি ভারতে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের। টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, “জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলা ভুল করে ঢুকে পড়েন অন্য ওয়ার্ডে। তারপর অন্য যে সকল রোগী রয়েছেন তাঁদের উপর অত্যাচার করছিলেন তিনি। সেই কারণেই হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীকে ডাকা হয়। তখনই এই মারধরের ঘটনা ঘটে।” প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওতে থাকা লোকজনের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। তবে, সেখানে নারীর চেহারা ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।

  • Doctor beats up female patient in bnp era fact-check
  • Doctor beats up female patient in bnp era fact-check

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে ইটিভি ভারতের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানেও একই দাবি করা হয়। নদিয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাসের দাবি, এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, এটা যেহেতু হাসপাতালের মধ্যে হয়েছে তাই প্রাথমিকভাবে পুরোটাই স্বাস্থ্য দফতরের ব্যাপার। দফতরের তরফে এই ঘটনার তদন্ত চালানো হবে।

অর্থাৎ, চিকিৎসক হাসপাতালের এক নারী রোগীকে মারধর করছে দাবিটি সঠিক নয় এবং প্রচারিত ভিডিওটিও বাংলাদেশের কোনো ঘটনা নয়। মূল ঘটনাটি বছরখানেক আগে ভারতের কৃষ্ণনগরে ঘটেছিল।

আরো কিছু লেখা