সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
communal misinformation about the Sitakunda shipyard tragedy

বোমা বিস্ফোরণে নয়, সীতাকুণ্ডে শ্রমিকদের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, সীতাকুণ্ডে বোমা বিস্ফোরণে ৩ থেকে ৭ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন। প্রচারিত পোস্টে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে, ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ের দেখা গেছে বোমা বিস্ফোরণের দাবিটি সঠিক নয়। সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মধ্যে হিন্দু এবং মুসলিম- দুই ধর্মের অনুসারী ছিলেন।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৪ আগস্ট একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। কার্ডের শিরোনামে লেখা, “সীতাকুণ্ডে বোমা বিস্ফোরণে ৩ জন হিন্দু নিহত মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পাররে (লেখা অপরিবর্তিত)।’’ ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ এবং গ্রুপ (, , , , , ) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ড, লিখিত পোস্ট এবং ভিডিও প্রচার করা হয়।

Collating screenshots of false Facebook posts claiming a bomb blast killed Hindu workers in Sitakunda
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ফেসবুকের আরেকটি পেজ থেকে একই দিনে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “সীতাকুন্ডে হিন্দুদের উপর বোমা বিস্ফোরণ সাত জন সনাতনী নিহত সংখ্যা আরো অনেক বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’’ 

ফেসবুকের একাধিক পেজ, অ্যাকাউন্ট এবং গ্রুপ থেকেও (, , , ) একই দাবিতে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে।

Collating screenshots of false Facebook posts claiming a bomb blast killed Hindu workers in Sitakunda
সীতাকুণ্ডে বোমা বিস্ফোরণে ৭ জন হিন্দু প্রাণ হারায়- এমন ভুয়া দাবিতে প্রচারিত একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতিবেদনের শুরুতে মারা শ্রমিকদের স্বজনদের কান্নার দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে যার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে ব্যবহৃত ছবির সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন (, , , , ) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার কাজ চলাকালে হঠাৎ জাহাজের ভেতরে গ্যাস লিকেজ হয়ে অতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে নয়জন শ্রমিক মারা যান এবং আরও ছয়জন আহত হন। আহত শ্রমিকদের চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় ফেরদৌস স্টিল নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। 

Screenshots of mainstream news coverage confirming gas leak accident at Sitakunda shipbreaking yard
প্রকৃত ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

মৃত শ্রমিকদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মের অনুসারী রয়েছেন।

অর্থাৎ, সীতাকুণ্ডে বোমা বিস্ফোরণে ৩ থেকে ৭ জন হিন্দু ধর্মের লোক মারা যাওয়ার দাবিটি ভুয়া। জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

আরো কিছু লেখা