সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, “১৫ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছেন সিকান্দার রাজার কন্যা।” বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম নিউজ টোয়েন্টি ফোরও এমন দাবিতে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গত ২ আগস্ট সংবাদমাধ্যম নিউজ টোয়েন্টিফোরের ক্রীড়া বিষয়ক পেজ ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর স্পোর্টস’ থেকে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “১৫ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছেন সিকান্দার রাজার কন্যা।” প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্জন উদযাপনে জিম্বাবুয়ের হারারেতে পরিবারের আয়োজনে একটি ঘরোয়া ইসলামিক অনুষ্ঠান হয়, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সে কুরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষক এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটি ৭ লাখ ১৮ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে, প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৭৭ হাজারের বেশি এবং শেয়ার হয়েছে ১ হাজার ৮০০ বারের বেশি।

‘শামীম আহমেদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১ আগস্ট একই দাবিতে পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা হয়েছিল, পাকিস্তানি কুরআন শিক্ষক ক্বারী মুহাম্মদ ইউসুফের তত্ত্বাবধানে অনলাইনে ক্লাস করে দুই বছরেরও কম সময়ে ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন আনায়া রাজা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই পোস্টে ৮৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল, শেয়ার হয়েছে ১৬৫ বার। একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (১, ২), পেজ (১, ২, ৩, ৪) ও গ্রুপ (১) থেকে পোস্ট করা ছড়ানো হয়।
কিওয়ার্ড সার্চে দেখা যায়, পাকিস্তানভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম পেজগুলোতে একই দাবি আগে থেকেই ছড়িয়েছিল। গত ৩১ জুলাই কারেন্ট পাকিস্তান নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজে এই দাবি প্রকাশিত হয়, যেখানে পোস্টের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বর্ণনায় বলা হয়, ব্যবহৃত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি এবং কেবল রেফারেন্সের জন্য। এরপর আরও একাধিক পাকিস্তানভিত্তিক পেজ থেকে এই দাবি ছড়িয়ে পড়ে (১, ২, ৩)।

তবে কিওয়ার্ড সার্চ করে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি সিকান্দার রাজার ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রাম ও এক্স অ্যাকাউন্টেও এ সংক্রান্ত কোনো ছবি বা পোস্ট পাওয়া যায়নি।
পরে ডিসমিসল্যাব সরাসরি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন, ভাইরাল দাবিটি মিথ্যা।
অর্থাৎ, সিকান্দার রাজার মেয়ের কুরআন হাফেজা হওয়ার দাবিটি সত্য নয়।
উল্লেখ্য, অনলাইনে পাওয়া তথ্য থেকে সিকান্দার রাজার অন্তত এক মেয়ে ও এক ছেলের কথা জানা যায়। ২০২৫ সালের ১ মে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাজা জানিয়েছেন, তার ছেলের নাম ইসা এবং মেয়ের নাম আনায়া।

