
বহুতল ভবনে আগুনের দৃশ্যের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। দাবি করা হয়, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও এটি। একই ভিডিও একই দাবিতে ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্সেও। বলা হচ্ছে, “বাংলাদেশে পাকিস্তানী সংস্কৃতির চর্চা!”
খিলক্ষেত থানা আওয়ামিলীগ নামের এক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে একটি বহুতল ভবনের ছাদে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদে আগুন দেশটা চালায় কে? শেষ,পর্যন্ত মসজিদ ও রেহায় পায়নি জঙ্গীদের হাত থেকে,,” (বানান অপরিবর্তিত)।

এ পর্যন্ত পোস্টটি ৩৫ বার শেয়ার করা হয়েছে, ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় তিন হাজার বার। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “বোমার কারখানা তৌহিদ জনতা নামে জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য হতে পারে”। আরেকজন লিখেছেন, “তৌহিদী জনতা নামজ জামায়াতের হাতে মসজিদও নিরাপদ নয়”। কেউ আবার এই পরিস্থিতিতে জানিয়েছেন “শেখ হাসিনা সরকার”-এর প্রয়োজনীয়তার কথা।
খিলক্ষেত থানা আওয়ামিলীগ-এর এই পোস্ট শেয়ার করেছেন দ্য ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির রিসার্চ এসোসিয়েট প্রফেসর নিরু কে নাহার। একই ভিডিও তিনি শেয়ার করেছেন তার সামাজিক মাধ্যমের এক্স হ্যান্ডল থেকেও। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “ঢাকার মোহাম্মদপুরে #শিয়া_মসজিদে আগুন! বাংলাদেশে #পাকিস্তানী_সংস্কৃতির চর্চা!”
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও (১, ২) ও সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুসারে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় ‘রিং টাওয়ার’ নামের একটি ১০ তলা ভবনের ছাদে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় লাগা এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানায় মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভবনটির ছাদের ওপর কর্মচারীদের ফেলে রাখা জ্বলন্ত সিগারেট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটে।
অর্থাৎ, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদে আগুন লাগার দাবিটি সঠিক নয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে মোহাম্মদপুর রিং রোডে টোকিও স্কয়ারের উল্টো পাশের ‘রিং টাওয়ার’ নামের একটি ১০ তলা ভবনের ছাদে।