
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম আরটিভির দাবিতে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মাসে দেশে ফিরবেন তাই বিদেশে পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ফটোকার্ডটি ভুয়া।
ফেসবুকে “সাপোর্টার অফ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” নামের একটি গ্রুপ থেকে গত ৮ জুন শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়। সংবাদমাধ্যম আরটিভির লোগো ব্যবহার করে বানানো ফটোকার্ডের ক্যাপশনে ও কার্ডের ভেতরে হলুদ ও সাদা হরফে লেখা, “আগামী মাসে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা বাহিরে থাকা নেতাকমীদের দেশে ফেরার নির্দেশ” ( বানান অপরিবর্তিত)। ফটোকার্ডের ক্যাপশনে লেখা, “ইনশাআল্লাহ। নেত্রী অপেক্ষায় রইলাম ❤️।”

কার্ডের উপরে বাঁ দিকে আরটিভির লোগো এবং মাঝখানে তারিখ হিসেবে “০৭ জুন ২০২৬” উল্লেখ করা রয়েছে। এছাড়া, নিচে সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং কার্ডের প্রতিবেদনের একটি কিউআর কোড দেওয়া দেওয়া আছে। ফেসবুকের একটি পেজ থেকেও একই ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।
প্রচারিত ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করলে আরটিভির ফটোকার্ডের সঙ্গে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়। ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ফন্ট এবং লেখার আকারও স্বাভাবিকের তুলনায় বড়। তাছাড়া, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত শিরোনামের বানানেও ভুল পাওয়া গেছে। কার্ডে ব্যবহৃত আরটিভির কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে অন্য একটি প্রতিবেদনের লিংক পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “নদীতে ফেলে আ.লীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা”।

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে আরটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ০৭ জুনের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো এবং ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে সংবাদমাধ্যম আরটিভির সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আবু আজাদ ডিসমিসল্যাবকে জানান, এমন কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমটি প্রকাশ করেনি।
অর্থাৎ, শেখ হাসিনা নিজে আগামী মাসে দেশে ফিরবেন এবং দেশ ছেড়ে পালানো দলীয় নেতাকর্মীদের ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন- এমন দাবিতে আরটিভির নামে ভুয়া শিরোনামের ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ইতঃপূর্বে সংবাদমাধ্যমটির নামে এমন ভুয়া ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে আসে।