মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 1 month old
ফ্যাক্টচেক ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি সাবেক সংসদ সদস্য বদির আত্মীয়, উপজেলা জামায়াত আমির নন

ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি সাবেক সংসদ সদস্য বদির আত্মীয়, উপজেলা জামায়াত আমির নন

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সাদা টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করছে কোস্ট গার্ডের এক সদস্য, আর পায়জামার ভেতর থেকে ইয়াবার প্যাকেট বের করছেন — সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এমন দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। আর দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে ইয়াবাসহ ধরা পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির। কোথাও যশোর, কোথাও চট্টগ্রাম, আবার কোথাও নির্দিষ্ট কোনো স্থান উল্লেখ না করেই তাকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতা বলা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টেকনাফ উপজেলার বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আত্মীয় হাফেজ উল্লাহ।

ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২৫ জুলাই একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “যশোর ৬ আসনের উপজেলা জামাতের আমীর প্যান্টের ভিতরে ধোনের নিচে ৪৫ হাজার ইয়াবা বা কোটি টাকার ইয়াবা পাচারের কৌশল। পরে ধরা খেলো টেকনাফ ইনানীতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে.. এরা সংসদে গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং এরাই আবার ধোনের নিচে ইয়াবা পাচার করে…এরা যে ধর্মব্যবসায়ী এবার তো প্রমাণ পেলেন।” এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ২৩ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ১৫০-এর বেশি শেয়ার করা হয়েছে।

জিয়ার সৈনিক নামে একটি ফেসবুক পেজে একই ক্যাপশনে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি এক লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং দেড় হাজারবার শেয়ার করা হয়েছে।

সাদা টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করছে কোস্ট গার্ডের এক সদস্য, আর পায়জামার ভেতর থেকে ইয়াবার প্যাকেট বের করছেন — সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এমন দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। আর দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে ইয়াবাসহ ধরা পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির। কোথাও যশোর, কোথাও চট্টগ্রাম, আবার কোথাও নির্দিষ্ট কোনো স্থান উল্লেখ না করেই তাকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতা বলা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টেকনাফ উপজেলার বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আত্মীয় হাফেজ উল্লাহ।
ইয়াবাসহ উপজেলা জামায়াতের আমির আটক দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ফেসবুকের আরও একাধিক পেজ ও প্রোফাইল (,,,) থেকে “উপজেলা জামায়াতের আমির আটক” দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করলে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অঞ্চলভিত্তিক ফেসবুক পেজ চট্টগ্রাম টোয়েন্টিফোরের একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্যের ভিডিও খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের বর্ণনায় লেখা ছিল, “পায়জামার ফিতা খুলতেই বেরিয়ে এলো সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবা!” ভিডিওর ভেতরে লেখা, “ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা এখন করেন ইয়াবার ব্যবসা!”

বিস্তারিত জানতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে একাধিক প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। সংবাদ সংস্থা ইউএনবির ২৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম, “সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ টেকনাফ উপজেলা আ.লীগ নেতা আটক।” প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ব্যক্তির চেহারার মিল লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুকিত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইনানীর কোস্ট গার্ড স্টেশন ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। বাসে থাকা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।”

  • ফ্যাক্টচেক ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি সাবেক সংসদ সদস্য বদির আত্মীয়, উপজেলা জামায়াত আমির নন
  • ফ্যাক্টচেক ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি সাবেক সংসদ সদস্য বদির আত্মীয়, উপজেলা জামায়াত আমির নন

বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘কক্সবাজারের ইনানী বিচে সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ উল্লাহকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক হাফিজ উল্লাহ (৬৬) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ডেইলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এর আগেও ইয়াবাসহ আটক হওয়ার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।’’  

দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৪ জুলাই আটক হওয়া এই ব্যক্তির নাম মো. হাফেজ উল্লাহ। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ফুফাতো বোনের স্বামী তিনি। আরও জানানো হয়, আটক হওয়া ব্যক্তি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন।

অর্থাৎ, ভিডিওতে আটক ব্যক্তি জামায়াত নেতা নন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টেকনাফ উপজেলার বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নিকটাত্মীয় হাফেজ উল্লাহ।

আরো কিছু লেখা