সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 1 month old
মারধরকারী ব্যক্তি জামায়াত নেতা নন, বিজেপির আহ্বায়ক।

জামায়াত নেতা নন, ব্যবসায়ীকে মারধর করছিলেন বিজেপি নেতা

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সাদা টুপি-পাঞ্জাবি পরা দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি দোকানের ভেতরে বসা আরেক ব্যক্তিকে চড় মারছেন, এমন একটি দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, নারীসহ ধরা পড়া জামায়াতের এমপিকে নিয়ে সমালোচনা করায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা করেছেন এক জামায়াত নেতা। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, হামলাকারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন, বরং ভোলার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপির) আহ্বায়ক।  

ফেসবুকের একটি প্রোফাইল থেকে গত ২১ জুলাই একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, “নারী সমন্বয়ক নিয়ে কট জামাত এমপিকে নিয়ে সমালোচনা করায় ব্যবসায়ীর উপর জামাত নেতার হাম’লার দৃশ্য!!” ০৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি দোকানের ভেতরে থাকা ব্যক্তির সাথে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলছেন। এক পর্যায়ে তিনি চড়-থাপ্পড় মারেন। 

হামলাকারী ভোলার স্থানীয় বিজেপি নেতা আবুল কালাম মাতব্বর।
ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে ব্যবসায়ীর ওপর হামলাকারী ব্যক্তি জামায়াতের নেতা।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং চারশর বেশি শেয়ার হয়েছে। ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি।

ফেসবুকের আরও একটি প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে। 

ঘটনার সত্যতা জানতে কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করলে, ফেসবুকে ‘তকি খান’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে গত ২১ জুলাই পোস্ট হওয়া একই দৃশ্যের ভিডিও সামনে আসে। ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, “ভোলায় ক্ষমতাসীন নেতা কর্তৃক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ চরসামাইয়া ইউনিয়ন বিজেপির আহ্বায়ক আবুল কালাম মাতব্বরের বিরুদ্ধে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে।” ক্যাপশনের শেষে তকি খান নিজেকে সাংবাদিক এবং ভোলা জেলা ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বলে উল্লেখ করেন।

মারধরকারী ব্যক্তি জামায়াত নেতা নন, বিজেপির আহ্বায়ক।
ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বিজেপি আহ্বায়ক আবুল কালাম মাতব্বরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগের ফেসবুক পোস্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ২০ জুলাই ছড়িয়ে পড়া আরেকটি পোস্টে বলা হয়, ভোলার শান্তিরহাট বাজারের ভেতরে একটি টেলিকম ও মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের ব্যবসায়ী সোহাগের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে এবং দোকানে হামলা চালায় আবুল কালাম মাতব্বর ও তার লোকজন। 

অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায় (,,,,)। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ভিডিওর ওই ব্যক্তি জামায়াতের সদস্য নন। তিনি ভোলার সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বিজেপির আহ্বায়ক আবুল কালাম মাতব্বর। 

মারধরকারী ব্যক্তি জামায়াত নেতা নন, বিজেপির আহ্বায়ক।
একাধিক সংবাদমাধ্যমে আসল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি।

অর্থাৎ, ভিডিওতে ব্যবসায়ীকে মারধরকারী ব্যক্তি কোনো জামায়াত নেতা নন। তিনি ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বিজেপি নেতা আবুল কালাম মাতব্বর।

আরো কিছু লেখা