জান্নাতুল ফিরদাউস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক ভারতের হোটেলে শেখ হাসিনা বলে ছড়ানো ভিডিওটি ২০০৭ সালের লন্ডনের সাক্ষাৎকারের

ভারতের হোটেলে শেখ হাসিনা বলে ছড়ানো ভিডিওটি ২০০৭ সালের লন্ডনের সাক্ষাৎকারের

জান্নাতুল ফিরদাউস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

ভারতের একটি হোটেলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখা গেছে, এমন দাবিতে একটি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০০৭ সালে লন্ডনে দেওয়া শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকারের। 

২৮ জুলাই ‘বাংলার সময় টিভি’ নামের একটি সংবাদমাধ্যম একটি ভিডিও পোস্ট করে। ভিডিওতে একটি কক্ষে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “ভারতের একটি হোটেলের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দেখা গেছে।” একই ভিডিও গত ৬ জুলাই সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মাটি টিভি (mati tv) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা হয়।

ফ্যাক্টচেক ভারতের হোটেলে শেখ হাসিনা বলে ছড়ানো ভিডিওটি ২০০৭ সালের লন্ডনের সাক্ষাৎকারের
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

সে পোস্টে লেখা, “ভারতের একটি হোটেলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দেখা গেছে।” ভিডিওটি ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে, সাড়ে আটশর বেশি শেয়ার করা হয়েছে। স্বার্থপর বাংলাদেশ নামের একটি ফেসবুক পেইজেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “৬ তারিখ দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, ভারতের একটি হোটেলে হঠাৎ সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনা।”

ভিডিওর শুরুতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “নিজেরা আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গিয়ে পার্টিও করছে, ইলেকশনও করছে। এখন যারা পার্টি করে পার্টি অর্গানাইজ করতে পারে না আর যারা ইলেকশন করলে জামানত ধরে রাখতে পারে না, তারা এখন শিক্ষিত লোক হয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে।” একটু পর এক সাংবাদিককে প্রশ্ন করতে শোনা যায়, “আপনি ৬ তারিখে যাচ্ছেন?”

পোস্ট দুটিতে ব্যবহারকারীদের মন্তব্য দেখলে বোঝা যায়, কিছু ব্যবহারকারী দাবি বিশ্বাস করেছেন, আবার অনেকেই বলেছেন ভিডিওটি পুরোনো।

ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘ইমিগ্র্যান্ট চ্যানেল’ (immigrant channel) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি পাওয়া যায়। ইউটিউবে এই ভিডিও ২০০৭ সালের ১৬ মে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওর বর্ণনায় লেখা, “অধ্যাপক ইউনূসের ব্যাপারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য।”

ভিডিওর শুরুতে ব্যাকগ্রাউন্ডে বলতে শোনা যায়, “১ মে, ২০০৭। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক শ্রোতা এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিভিন্নভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন।” এই ভিডিওর ৩৩ সেকেন্ডের পরের অংশ ছড়ানো ভিডিওর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

‘ইমিগ্র্যান্ট চ্যানেল’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ২০০৭ সালে প্রকাশিত ভিডিওর স্ক্রিনশট।

পরবর্তীকালে তানভীর আহমেদ (Tanvir Ahmed) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলেও ভিডিওটি পাওয়া যায়। ২০০৭ সালের ১৭ জুলাই প্রকাশিত এই ভিডিওর বর্ণনায় লেখা, “লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকসে দেওয়া বক্তৃতা শেষে শেখ হাসিনার একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা।” এই ভিডিও থেকে বোঝা যায়, ছড়ানো ভিডিওর শুরুতে যার সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছিল, তিনি ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর করেন। সফর চলাকালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এই প্রসঙ্গেই ভিডিওতে ৬ তারিখের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল।

২০২৪ সালেও একই ভিডিও “ভারতে শেখ হাসিনার ইন্টারভিউ” দাবিতে ছড়িয়েছিল। তথ্য যাচাইকারী সংস্থা বুম বাংলাদেশ তখন এ নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

আরো কিছু লেখা