
বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান দিল্লিতে মোদি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি দিল্লির আন্দোলনের নয়, বরং ২০২৩ সালে গণেশ চতুর্থী উৎসবের সময় মুম্বাইয়ের একটি মণ্ডপে ধারণ করা দৃশ্য।
ফেসবুকে গত ২২ জুলাই “এম এফ এ নিউজ” নামের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “দিল্লিতে মোদী বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন বলিউড কিং শাহরুখ খান।” এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সময় পর্যন্ত পোস্টটি দেখা হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজারেরও বেশি বার এবং শেয়ার হয়েছে ৪৫০ বারেরও বেশি। একই শিরোনামে ‘মেহেদি হাসান’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয়, যা দেখা হয়েছে ৮০ হাজার বার এবং শেয়ার হয়েছে ৭৪৬ বার।

কিফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে এই ঘটনার একাধিক ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। বলিউডভিত্তিক ইনস্টাগ্রাম পেজ “ভুমপ্লা” থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, যার বিবরণীতে বলা হয়, লালবাগচা রাজার দর্শন সেরে দেহরক্ষীসহ বেরিয়ে আসছেন শাহরুখ। এই ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু মিল দেখা যায়।
একই ঘটনা নিয়ে ভিডিও ইউটিউবের “এইচটি সিটি” চ্যানেল থেকেও প্রকাশিত হয় ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে, যেখানে বলা হয়, ছেলে আবরামকে নিয়ে লালবাগচা রাজা গণপতির দর্শনে গেছেন শাহরুখ খান। ভিডিওটির ২৭ সেকেন্ড থেকে ৫১ সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে আন্দোলনে শাহরুখ খান দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থী উৎসবের তৃতীয় দিনে ছেলে আবরাম ও ম্যানেজার পূজা দাদলানিকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় গণেশ মণ্ডপ লালবাগচা রাজায় আশীর্বাদ নিতে যান শাহরুখ। ভক্তদের ভিড় সামলে ছেলেকে আগলে রাখার পাশাপাশি তিনি হাত নেড়ে অভিবাদন জানান, আর সেই দৃশ্যই পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অর্থাৎ, দুই বছরেরও বেশি আগে মুম্বাইয়ে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে শাহরুখ খানের একটি মণ্ডপ পরিদর্শনের ভিডিওকে সাম্প্রতিক দিল্লি আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের দৃশ্য বলে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে শাহরুখ খানের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রসঙ্গত, ভারতে সম্প্রতি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) ব্যানারে আন্দোলন হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই (২০২৬) হাজার হাজার আন্দোলনকারী দিল্লির সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর এই পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদে পরদিন মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবন অভিমুখে একটি প্রতিবাদী পদযাত্রা করেন।