সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
School student assault video falsely attributed to a teacher.

শিক্ষক নয় সহপাঠীর অভিভাবক মারধর করছিলেন স্কুলছাত্রকে 

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট ছড়িয়ে সেটিকে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে নির্যাতনের দৃশ্য বলে দাবি করা হয়। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সত্য নয়। ভিডিওতে যে ব্যক্তি মারধর করছিলেন তিনি স্কুলশিক্ষক নন, মারধরের শিকার সেই শিক্ষার্থীর এক সহপাঠীর অভিভাবক।

‘সোহাগ ফায়ার’ (SOHAG FIRE) নামের একটি পেজ থেকে গত ৮ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি দুইটি অংশে বিভক্ত। উপরে অংশে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের পোশাক পরা এক ছাত্রকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে এক ব্যক্তি কয়েকবার আছাড় দিচ্ছেন এবং অনবরত কিল-ঘুষিসহ তাকে পেটাচ্ছেন। আশেপাশের অনেক শিক্ষার্থীকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ভিডিওর নিচের অংশে পোস্টদাতাকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলছেন, “এটা কখনো শিক্ষাব্যবস্থা হতে পারে না। দেখছেন শিক্ষকের কাছে যেখানে ছাত্র নিরাপদ নয় ওখানে কীভাবে এটা শিক্ষাব্যবস্থা হবে! এটি সন্ত্রাস ও নির্যাতনের একটি ক্লাব কিংবা একটি স্থান বলা যায়। দেখতে পাচ্ছেন এভাবে নির্যাতন করলে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে শিখবে এবং তাদের কাছ থেকে কী শিখবে!” (ভাষ্য অপরিবর্তিত)। পোস্টে লেখা, “বাংলাদেশের স্কুল ব্যবস্থা।”

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৫৬ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং সাড়ে নয় শতাধিকবার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ব্যবহারকারী। 

অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে চলতি বছরের ১ অক্টোবর সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ২ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রকে শূন্যে তুলে আছাড় দিলেন সহপাঠীর ‘অভিভাবক’।” প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও কয়েক দফা আছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

Viral school assault footage misrepresented as teacher violence in Bangladesh.
প্রকৃত ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

বিস্তারিত যাচাইয়ে কিফ্রেম সার্চে দেখা যায় একাধিক সংবাদমাধ্যম (১, ২, ৩, ৪) ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকালে সিরাজদিখান উপজেলার রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনাটি ঘটে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই শ্রেণির মো. হাবিব ভূইয়া ও আতিকুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করে উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে আসতে বলে। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার আতিকুর রহমানের ফুফাতো ভাই নাহিদ শেখ শ্রেণিকক্ষে ঢুকে হাবিব ভূইয়াকে মারধর ও আছাড় দেন। পুরো দৃশ্যটি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবককে গ্রেপ্তায় করেছে পুলিশ।

School student assault video falsely attributed to a teacher.

বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে সিরাজদিখানের আসল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, স্কুল শিক্ষক ছাত্রকে মারধর করছেন দাবিটি ভুয়া। মূলত দুই সহপাঠীর ঝগড়ার জেরে একজনের অভিভাবক মারধর করছিলেন অন্য শিক্ষার্থীকে।

আরো কিছু লেখা