রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির লাশ কবর থেকে উঠিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির, এমন দাবিতে সম্প্রতি একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি নুরুল হক ওরফে “নুরাল পাগলা”-র কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলার ঘটনার।
একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বৃহস্পতিবার ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে কয়েকজনকে মাটি খুঁড়ে একটি মরদেহ তুলতে দেখা যায়। পোস্টে লেখা, “রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির মৃত লাশ কবর থেকে উঠিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল জামায়াত শিবিরের পাকিস্তানি দালালেরা।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি দেড় লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ১৭০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। একজন মন্তব্য করেছেন, “একজন মানুষের মরা লাশ কবর থেকে উঠিয়ে পোরানো এটা কোনো ভাবেই ঠিক না”। আরেকজন লিখেছেন, “সাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, এর প্রতিফল তারা পাবে ইনশাআল্লাহ।”
একই দাবিতে ভিডিওটি ছড়িয়েছে ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকেও। “শেখ হাসিনা”, “জয় বাংলা নওগাঁ”, “মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ” নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও ছড়িয়েছে একই ভিডিও। এসব পোস্টও শেয়ার হয়েছে অর্ধশত থেকে তিন শতাধিকবার।

ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে প্রবাস খবর নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে এক বছর আগে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ৩ মিনিটের এই ভিডিওর অষ্টম সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির পুরোপুরি মিল রয়েছে। ভিডিওটির বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি নুরাল পাগলা বা নুরু পাগলা নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে তোলার ঘটনার দৃশ্য।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে দৈনিক ইত্তেফাক ও জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামে জাগোনিউজ লিখেছে, “নুরাল পাগলার কবর নিয়ে রাজবাড়ীতে র’ক্ত’ক্ষ’য়ী সং’ঘ’র্ষ, তোলপাড় দেশজুড়ে।” দৈনিক ইত্তেফাক লিখেছে, “‘নুরাল পাগলা’র দরবারে হা-মলার ঘটনায় মা-মলা, আসামি সাড়ে ৩ হাজার।”

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের ১১তম সেকেন্ডে ও জাগোনিউজের প্রতিবেদনের ২ মিনিট ১০ সেকেন্ডে একই পোশাক পরা কয়েকজনকে মরদেহ তুলতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির লাশ দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যাদের দেখা যায় তাদের সঙ্গে দৃশ্যটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে “নুরাল পাগলা”র কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মরদেহ কবর থেকে তুলে মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা।
অর্থাৎ, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির লাশ কবর থেকে উঠিয়ে জামায়াত-শিবিরের আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূলত “নুরাল পাগলা”-র কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলার ঘটনার।

