নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক, কবিরাজ আটককে জামাত নেতার গ্রেফতার হিসেবে প্রচার

ধর্ষণের মামলায় আটক কবিরাজকে জামায়াতের নেতা বলে প্রচার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, পটুয়াখালিতে ধর্ষণের অভিযোগে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল হাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তির নাম তাইজুল ইসলাম মুসা। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুসা একজন কথিত কবিরাজ এবং এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা কোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ৫ নভেম্বর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা, “তাবিজ পানি পড়া দেওয়ার নাম করে কিশোরী থেকে মহিলা সবাইকে ধ-র্ষ-ণ করে,পটুয়াখালীতে, ইউনিয়ন জামাতের আমির আব্দুল হাদী কে গ্রেফতার।” ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি এবং টুপি পরা এক ব্যক্তিকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওর ২১ সেকেন্ডে আসামি এবং পুলিশের পেছনে ব্যানারে “কলাপাড়া থানা, পটুয়াখালী” লেখা দেখা যায়।

ফ্যাক্টচেক, কবিরাজ আটককে জামাত নেতার গ্রেফতার হিসেবে প্রচার
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইনকিলাবে ৪ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “কলাপাড়ায় যৌন নিপীড়ন অভিযোগ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কবিরাজি চিকিৎসার নামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গের ভিডিও মোবাইলে ধারন করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০) নামের এক কথিত কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৮ এর সদস্যরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কলাপাড়া থানায় সোপর্দ করে। মুসা উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ঝাঁড়ফুকের মাধ্যমে কবিরাজি চিকিৎসা দেয়ায় এলাকায় তিনি মুসা হুজুর নামে পরিচিত।”

ফ্যাক্টচেক, কবিরাজ আটককে জামাত নেতার গ্রেফতার হিসেবে প্রচার
মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।

এছাড়াও একাধিক (১, ২) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। উল্লেখ্য কোনো প্রতিবেদনেই তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উল্লেখ করা হয়নি।

অর্থাৎ, ধর্ষণের মামলায় আটক কথিত কবিরাজকে জামায়াতের নেতা বলে প্রচার করা হচ্ছে। 

আরো কিছু লেখা