তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
পুলিশ-বিএনপির হামলায় নয়, নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু অসুস্থ হয়ে

পুলিশ-বিএনপির হামলায় নয়, নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু অসুস্থ হয়ে 

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

দেশের বিভিন্ন স্থানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে এক শ্রমিককে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলছে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের  (বিএনপি) সন্ত্রাসীরা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওতে যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে সেই ঘটনায় নারী কর্মীটি কারখানায় কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।

মনির সাগর নামে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বুধবার ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা, “পুলিশের সাথে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে হ*ত্যা করে লা*শ গুম করে ফেলছে। অবুঝ ছোট একটা বাচ্চাসহ স্বজনদের আহাজারি।” (বানান অপরিবর্তিত) 

৪৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে একটি শিশুকে কাঁদতে এবং মায়ের মৃত্যুর বিচার চাইতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের কয় যে টাকা দিব, আমাদের টাকার দরকার নাই। কোটি কোটি টাকা আছে, টাকার দরকার নাই। টাকা পাওয়া যাইবো, কিন্তু মা পাওয়া যাইবো না!” এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি এক হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ১০ বার রিপোস্ট করা হয়েছে। 

পুলিশ-বিএনপির হামলায় নয়, নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু অসুস্থ হয়ে 
এসময়ে প্রচারিত ভিডিও-এর স্ক্রিনশট

ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে এসময় নামে এক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হুবহু একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যা গত ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। এর ক্যাপশনে লেখা, “আশুলিয়া নয়াপাড়া ডেকো গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকের মৃ’ত্যু, নারী ও শিশু হাসপাতাল থেকে লা/শ গু/মে/র অভিযোগ স্বজনদের” (বানান অপরিবর্তিত)।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে আজকের প্রতিদিন, দৈনিক নিউজ, ঢাকা প্রেস নামে অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্মে ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব ভিডিওতে শিশুটি ও তার আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখলে বোঝা যায় সেটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ঘটনা। তার পোশাক, অবস্থান, আশপাশের দৃশ্য এবং অন্যান্য দৃশ্যগত উপাদানের মিল পাওয়া যায়।

পুলিশ-বিএনপির হামলায় নয়, নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু অসুস্থ হয়ে
অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ভিডিও-এর স্ক্রিনশট

এসব ভিডিও প্রতিবেদন ছাড়াও এ ঘটনায় প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২, ৩) থেকে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সাভারের আশুলিয়ায় ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেড’ কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রতিষ্ঠানটির সুইং অপারেটর সুমি আক্তার ওরফে মিশু। তাকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্বজনদের অভিযোগ, সুমি অসুস্থ বোধ করলেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরোধ ও ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

অর্থাৎ, ভিডিওটি দুই সপ্তাহের বেশি পুরোনো। ভিডিওতে এই ঘটনায় নিহত নারী শ্রমিকের স্বজনদের দেখা যাচ্ছে। ওই শ্রমিক কোনো হামলায় নয়, কারখানায় কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। 

প্রসঙ্গত, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সাভার, গাজীপুর, মিরপুরসহ দেশের নানা স্থানে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে  দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আরো কিছু লেখা