হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে আহত শ্রমিকদের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার দৃশ্য দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি শ্রমিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার নয়। এটি গত ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনার দৃশ্য।
‘আমরুল করিম রাশেদ’ (Amrul Karim Rashed) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রতি প্রায় ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা ছিল, “হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ঢুকে আহত শ্রমিকদের উপর ছাত্রদল নেতার হামলা।” ভিডিওতে ‘নেক্সট জেন’ (NextGen) নামের একটি লোগো এবং একই দাবি লেখা। এছাড়াও তারিখ হিসেবে “৪ নভেম্বর, ২০২৬” উল্লেখ করা। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত, পোস্টটিতে তিন শর বেশি প্রতিক্রিয়া এসেছে। শেয়ার হয়েছে অন্তত সাড়ে চার শ বার। ভিডিওটি একই দাবিতে আরও কিছু প্রোফাইল (১, ২, ৩) থেকে পোস্ট করা হয়েছে।

ভিডিওতে হাসপাতালের একটি কক্ষের ভেতর একজন ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য রয়েছে। কক্ষটির পেছনে সাদা রঙের পর্দা, পাশে কাঠের চেয়ার ও অন্যান্য আসবাব দেখা যায়।
ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে গত ২৬ অক্টোবর সংবাদমাধ্যম সমকাল ও আজকের পত্রিকায় একই দৃশ্যের একটি ছবি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জুয়েল হোসেন নিরব নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতা শাহেদ হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
স্থানীয়দের বরাতে সমকাল জানায়, মোবাইল ফোন বেচাকেনা নিয়ে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এর জেরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জুয়েলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি আত্মরক্ষার জন্য জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে পড়েন। সেখানেও তার ওপর হামলা চালানো হয়।

আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের বরাতে বলা হয়, চিকিৎসা নিতে আসা জুয়েল হোসেনের ওপর শাহেদ আলমের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন হামলা চালান। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যম যুগান্তর ও সময়ের আলোর ইউটিউব চ্যানেলেও একই ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভিডিওগুলোতে হাসপাতালের কক্ষ, চেয়ার, মারধরের দৃশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে। উভয় প্রতিবেদনেও ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া গত ২৭ অক্টোবর ঢাকা পোস্টের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে ২৬ অক্টোবর তাকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ঘটনায় শাহেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্তের সঙ্গে কথা বলে ডিসমিসল্যাব। তিনি জানান, ঘটনাটি গত অক্টোবরে ঘটেছে। শ্রমিকদের ওপর হামলার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “না, না, এটা দলীয় দলীয়, শ্রমিক সংক্রান্ত না।” এ ঘটনায় মামলা হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করেন তিনি।
অর্থাৎ, হাসপাতালে ঢুকে আহত শ্রমিকদের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার দৃশ্য দাবিতে নভেম্বরে প্রচারিত ভিডিওটি সম্প্রতি আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার কোনো ঘটনার নয়। এটি গত ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে মারধরের সময়কার ভিডিও।

