নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক দাবি সাভারে জঙ্গি হামলা, পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও

অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সাভারে জঙ্গি হামলার দাবি

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়, সাভারে জঙ্গি হামলা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো ঢাকা আর খুলনায় আগুন লাগার পুরোনো দুটি ঘটনার।

দাবি ১

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২৮ জুলাই একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনের এক অংশে লেখা হয়, “ঢাকা সাভারে হসপিটালে বোমা হামলা হয়েছে। মানুষ বোমায় কালো ধোয়ায় ছেয়ে গেছে। কি পরিমান হতাহত হয়েছে জানা  যায়নি।” ২ মিনিটের ভিডিওতে রাতের একটি দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ছোটাছুটি করছেন। 

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৩১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ছয়শর বেশি শেয়ার হয়েছে। এ ছাড়া সাভারে জঙ্গি হামলা হচ্ছে দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (,,,) থেকে। 

ফ্যাক্টচেক দাবি সাভারে জঙ্গি হামলা, পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

অনুসন্ধানে ভিডিওর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স সার্চ করলে, খুলনা সিটি নামের একটি পেজে গত ১২ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই পোস্টে লেখা ছিল, “খুলনা সিটি মেডিকেলে আ/গু/ন লাগার মুহূর্তে যে ভ/য়া/নক দৃশ্য তৈরি হয়েছিল সত্যি অনেক ক/ষ্টে/র।” ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে এই ভিডিওর হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চেও এই ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায় গণমাধ্যমে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, ২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ জুন রাত পৌনে দশটার দিকে নগরের ময়লাপোতা মোড়ের কাছে ১৭তলা হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। 

ফ্যাক্টচেক দাবি সাভারে জঙ্গি হামলা, পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও
প্রকৃত ঘটনা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট এবং সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

দাবি ২

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২৮ জুলাই আরেকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টের এক অংশে লেখা হয়, “ঢাকা সাভার  অবস্থা খুব খারাপ জ,ঙ্গি হা,ম,লা হচ্ছে মানুষ যান বাঁচানোর জন্য এদিক ওদিক দৌড়া দৌড়ি করতেছে, সাভারে স্থানীয়  মানুষ,এবং  যাদের আত্মীয় সজন আছে, সকলেই  তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, আমাদের বাংলাদেশ অনিরাপদ, সাধারণ মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছে।” ৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের পেছনে একটি বড় বিস্ফোরণ হয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “সাভারে জংলি কায়দায় বিস্ফোরক ককটেল হামলা চালানো হচ্ছে।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৭৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং পাঁচশর বেশি শেয়ার হয়েছে। একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (,,,) থেকে। 

ফ্যাক্টচেক দাবি সাভারে জঙ্গি হামলা, পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ভিডিওর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স সার্চ করলে, সময় নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন সামনে আসে। এ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “খিলগাঁওয়ে আগুন: তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।” প্রতিবেদনের বিবরণে লেখা, “রাজধানীর খিলগাঁও তালতলায় ভয়াবহ আগুনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।” ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে প্রতিবেদনের ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। 

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চেও ঘটনাটি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায় গণমাধ্যমে। যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “খিলগাঁওয়ে স’মিলের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, বিস্ফোরিত হচ্ছে সিলিন্ডার।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “রাজধানীর খিলগাঁওয়ে তালতলা মার্কেটের পাশে একটি স’মিলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।আগুন স’মিল থেকে পাশের একটি গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যারেজে থাকা বিভিন্ন গাড়িতে আগুন লাগছে এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হচ্ছে।” 

ফ্যাক্টচেক দাবি সাভারে জঙ্গি হামলা, পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও
প্রকৃত ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, সাভারে জঙ্গি হামলার দাবিতে দুটি পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে। 

আরো কিছু লেখা