
‘আপত্তিকর অবস্থায়’ এক নারী ও পুরুষ আটক দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, আটক হওয়া নারী বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি মিথ্যা।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ‘মাওলানা বজলুর রশীদ’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে গত ২১ জুলাই একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “ঢাকা ১৭ আসনের মনোনীত সানজিদা আক্রন্ত তুলি এমপি দুষ্টামি করতে গিয়ে কট!”
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি তিনশ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। প্রতিক্রিয়া এসেছে নয় শতাধিক। আরও একাধিক পেজ ও প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে (১, ২, ৩)।

সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করে ‘বিহার দেখো (bihar_dekho) ’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ পেজের পোস্টে লেখা, “অনন্ত গামেন্টস এর প্লানিং ম্যানে’জা’র এবং ওয়েলফেয়ার ম্যাম এর সাথে গ’ত’কা’ল ক’ট খাওয়ার ভিডিও।” এই পেজে প্রকাশিত ভিডিওটি তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ভিডিওতে থাকা নারীর চেহারার সঙ্গে সানজিদা ইসলাম তুলির চেহারার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর ফেস কম্পারিজন টুলের মাধ্যমে ভিডিওর নারীর চেহারার দুটি স্ক্রিনশটের সঙ্গে সানজিদা আক্তার তুলির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া দুটি ছবির তুলনা করা হয়। একটি তুলনায় দুই জনের চেহারার মধ্যে ২৫ শতাংশ মিল এবং আরেকটিতে ৩২ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। টুলটির ফলে বলা হয়, তুলনা করা ছবি দুটির ব্যক্তি এক নন (Two photos is not the same person)।
ফেস কম্পারিজন এআই টুলটি দুটি চেহারার তুলনা করে এবং তাৎক্ষণিক ফলাফল দেয়। ওয়েবসাইটটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “একই ব্যক্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেহারার মিলের হার ৮০ শতাংশের বেশি হতে হয়।”

গত এপ্রিলের শেষদিকেও হুবহু একই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখনো মুখ ঢাকা ওই নারীকে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু ও বিএনপি নেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি দাবিতে ছড়ানো হয়েছিল। তবে, সে সময় তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’ ও ‘ফ্যাক্টওয়াচ’- দুটি দাবিকে মিথ্যা জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।