মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
factcheck samantha sharmin house money recovery

ফ্যাক্টচেক ভিডিও কেটে সামান্তা শারমিনের বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের ভুয়া দাবি

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিনের বাসা থেকে সিন্দুকভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। ২০২০ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের দুই সাবেক নেতার বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের দৃশ্য এটি।

ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “জুলাই জঙ্গিরা দেশের জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে দেখুন।” ভিডিওটিতে বস্তা ও সিন্দুক ভর্তি টাকা উদ্ধারের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওর এক কোণায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। ধারাভাষ্যের ভঙ্গিতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “এনসিপির নেত্রী সামান্তা শারমিনের বাসা থেকে সিন্দুক ভর্তি টাকা উদ্ধার।” প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৯০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং সাত শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, , ) থেকে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে।

ভিডিওর সূত্র যাচাইয়ে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। “এনসিপির নেত্রীর বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার দাবিতে ভুয়া ভিডিও প্রকাশ” শিরোনামে প্রকাশিত ওই ভিডিও প্রতিবেদনের শুরু থেকে ষষ্ঠ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও হুবহু মিলে যায়। তবে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে এরপর বলা হয়েছে, “এমন এক ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।” ছড়ানো ভিডিওতে এই অংশটি কেটে ফেলা হয়েছে।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচের বরাতে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দুই বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাসা থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। সে ঘটনার ভিডিওর খণ্ডিতাংশ ব্যবহার করে সামান্তা শারমিনের ছবি জুড়ে দিয়ে ভুয়া ভিডিওটি বানানো হয়েছে।

টাকা উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন (, , ) পাওয়া যায়। ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের দুই সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব প্রায় ২৭ কোটি টাকা উদ্ধার করে। পাঁচটি সিন্দুকে সাজানো টাকা ছাড়াও এফডিআরের কাগজপত্র, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেল ও যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, ফ্যাক্টওয়াচের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি দৈনিক ইত্তেফাকের একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ প্রচার করে এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিনের বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের ভুয়া দাবি ছড়ানো হচ্ছে।

আরো কিছু লেখা