তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
অনশনকারীকে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য ভারতে ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ বলে প্রচার

অনশনকারীকে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য ভারতে ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ বলে প্রচার

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

পুলিশ একজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছে, এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। দৃশ্যটি দেখিয়ে একজন দাবি করছেন, ভারতে এক মসজিদের ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওর দৃশ্যটি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত ছাত্রনেতা দানিশ আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়ার সময়কার।

আল মদিনা স্টোর নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৬ জুলাই ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। এতে শুরুর ৭ সেকেন্ডে একটি ভিডিও ফুটেজে দেখানো হয়। দেখা যায়, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে অসুস্থ একজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্ক্রিনে ভিডিওটি দেখিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, “কোনো কথা হবে না ভাই, ভিডিওটা একটু বিদ্যুতের গতিতে শেয়ার হবে। আপনি যদি মুসলমান হন, দেখুন ভারতে একজন মসজিদের ইমামের মেয়েকে ৩০ জন মিলে ধর্ষণ করেছে, তাও আবার এক সপ্তাহ ধরে। আপনি কোন দেশে বসবাস করেন? ভারতের সংবিধান এবং ভারতের পুলিশ প্রশাসনকে আমি একটা কথা বলতে চাই, এই মসজিদের ইমামের মেয়ের যদি বিচার না হয়, পুরো ভারত জুড়ে আগুন জ্বলবে। ভিডিওটা সর্বোচ্চ শেয়ার করে দেবেন রে মুসলিম ভাই।”

পোস্টটি এ পর্যন্ত ১৪ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখা হয়েছে সাড়ে ছয় লাখের বেশি বার। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “ওদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”। আরেকজন লিখেছেন, “বিচার না হলে,পুরোহিতের মেয়েকে তুলে নিয়ে সেম কাজ করবে, হিসাব বরাবর” (বানান অপরিবর্তিত)।

অনশনকারীকে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য ভারতে ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ বলে প্রচার
ভুয়া দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের স্ক্রিনশট।

একই ভিডিও একই দাবিতে একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (, ) থেকেও ছড়িয়েছে। এছাড়াও, নিজেদের সংবাদমাধ্যম দাবি করা একটি ফেসবুক পেজ রাডার বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর থেকেও ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “৩০ জন মিলে মসজিদের ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ ভারতে” (বানান অপরিবর্তিত)। এই ভিডিও দেড় হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে, দেখা হয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি বার।  

ভিডিওর কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (, ) সামনে আসে। এসব ভিডিও প্রতিবেদনে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা ব্যক্তির পোশাক, মাথার নিচের বালিশের কভার, স্ট্রেচার টেনে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও তার পোশাক ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি গত ৪ এপ্রিল অনশনরত ছাত্রনেতা দানিশ আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়ার সময় ধারণ করা। 

অনশনকারীকে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য ভারতে ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ বলে প্রচার
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনের (বামে) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া পোস্টের (ডানে) স্ক্রিনশট।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ভেরিফায়েড ফেসবুকইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। এতে জানানো হয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে অনশন ধর্মঘট চলাকালীন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের যুগ্ম সচিব দানিশ আলী। নিট ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এই আন্দোলন শুরু করে। 

অর্থাৎ, ভারতে এক মসজিদের ইমামের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আসলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত ছাত্রনেতার।

আরো কিছু লেখা