মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
বিএনপির সংসদ সদস্যের সামনে সাজানো মদের ছবিটি এআই সম্পাদিত

বিএনপির সংসদ সদস্যের সামনে সাজানো মদের ছবিটি এআই সম্পাদিত

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম মদ্যপান করছেন দাবিতে একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে শাহাদাত হোসেন সেলিমের সামনে মদ ও চানাচুর সদৃশ বস্তু রাখা আছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই ছবির আরেকটি সংস্করণ, যেখানে মদ ও চানাচুরের দৃশ্য নেই, তা আসল ছবি বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এটিও এআই সম্পাদিত, যেখানে মদ ও চানাচুরের দৃশ্য পুনরায় সরানো হয়েছে। 

ফেসবুকে “জার্নালিস্ট ইলিয়াস হোসাইন ফ্যানস” নামের একটি পেজ থেকে পোস্ট হওয়া ছবিটি প্রথমে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “পুরো এক বোতল মদ একাই গিলে ফেলে দেশকে মাদকমুক্ত করছেন লক্ষীপুর-১ আসন রামগঞ্জ বিএনপির এমপি সাহাদাত হোসেন সেলিম।” 

ফ্যাক্টচেক বিএনপির সংসদ সদস্যের সামনে সাজানো মদের ছবিটি এআই সম্পাদিত
এআই সম্পাদিত ছবি দিয়ে সংসদ সদস্য মদ্যপান করছেন দাবিতে প্রচারিত একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি দেড়শ বারের অধিক শেয়ার হয়েছে। প্রতিক্রিয়া এসেছে সাত শর বেশি। 

এছাড়া আরও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করতে দেখা গেছে (, , )। কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল থেকেও ছবিটি আপলোড করা হয়েছে (, )। 

সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে সংবাদমাধ্যম লক্ষ্মীপুর টিভি থেকে গত ৫ জুলাই প্রকাশতি একটি প্রতিবেদন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা আছে, “এআই দিয়ে এমপি সেলিমের ছবি বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ।”

পরে, আলোচিত ছবিটি পর্যবেক্ষণে একটি অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। ছবিতে থাকা মদের বোতলের মধ্যে একটি গ্লাসের কিছু অংশ অস্বাভাবিকভাব ঢুকে গেছে।

ফ্যাক্টচেক বিএনপির সংসদ সদস্যের সামনে সাজানো মদের ছবিটি এআই সম্পাদিত
গুগলের বিশেষায়িত সিন্থ-আইডি টুলের মাধ্যমে (ডানে) সংসদ সদস্য মদ্যপান করছেন দাবিতে প্রচারিত ছবির ওয়াটারমার্ক বিশ্লেষণ (সূত্র-তৌসিফ আকবর, সিনিয়র ফ্যাক্টচেকার, বুম বাংলাদেশ)।

অধিকতর যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব ছবিটি একাধিক এআই শনাক্তকারী টুল দিয়ে পরীক্ষা করে। এতে গুগলের সিন্থআইডি প্রযুক্তি ছবিটিতে ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক খুঁজে পায়। সিন্থআইডি গুগলের একটি বিশেষায়িত টুল যা ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে গুগল দিয়ে সম্পাদিত বা নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সিন্থআইডি থেকে পাওয়া হিটম্যাপ থেকে দেখা যায়, ছবিতে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের সামনে   ট্রেতে সাজানো মদ ও চানাচুরের দৃশ্যটিতে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত হয়েছে।

পরবর্তীকালে, প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরও কয়েকটি পোস্ট পাওয়া যায় (, , )। এতে মদ ও চানাচুর ছাড়া এবং মদ ও চানাচুর সহ, দুইটি ছবি পাশাপাশি রেখে আলোচিত ছবিটিকে এআই সম্পাদিত এবং যেটিতে মদের বোতল নেই, সেটিকে দাবি করা হয় ‘আসল ছবি’ বলে।

এছাড়া পোস্টগুলোতে একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করা হয়, যেখানে দেখা যাচ্ছে, “আরফান খান মাহিম” নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত ছবিটি আপলোড হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ওই অ্যাকাউন্টে পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফ্যাক্টচেক বিএনপির সংসদ সদস্যের সামনে সাজানো মদের ছবিটি এআই সম্পাদিত
গুগলের বিশেষায়িত সিন্থ-আইডি টুলের মাধ্যমে (ডানে) আসল দাবিতে প্রচারিত ছবির ওয়াটারমার্ক বিশ্লেষণ (সূত্র-তৌসিফ আকবর, সিনিয়র ফ্যাক্টচেকার, বুম বাংলাদেশ)।

অন্যদিকে, আসল বলে প্রচারিত ছবির আলো-ছায়ার মিশ্রণ কিছুটা কৃত্রিম বলে প্রতীয়মান হলে সেটিও গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। এতে দেখা যায়, একাধিক পোস্টে আসল দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও এআই দিয়ে সম্পাদিত। সিন্থআইডি থেকে পাওয়া হিটম্যাপে দেখা যায়, এআই দিয়ে বসানো মদের বোতল সজ্জিত ট্রে, পুনরায় এআই দিয়ে সরিয়ে সেটি আসল ছবি বলে প্রচার করা হচ্ছে। 

তবে, ছবিটির মূল সংস্করণটি খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব। 

অর্থাৎ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম মাদক সেবন করছে দাবিতে ছড়ানো মদের বোতল সজ্জিত ছবি ও আসল দাবি করে ছড়ানো মদের বোতলবিহীন ছবি, দুটোই এআই দিয়ে সম্পাদনা করে বনানো হয়েছে।

আরো কিছু লেখা