
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, রাজশাহীতে এক ব্যক্তিকে পুলিশের গাড়িতে তোলার পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ঘটনাটি চলতি বছরের ১০ এপ্রিল রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক পলাতক ডাকাতকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য।
ফেসবুকে একটি পেজ থেকে গত ১২ এপ্রিল ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কর্দমাক্ত অবস্থায় একাধিক পুলিশ সদস্য নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। সামনে থাকা পুলিশের গাড়িতে এক ব্যক্তি চোখ বন্ধ অবস্থায় বসে আছেন। ভিডিওর ভেতরে পোস্টদাতা লিখেছেন, “রাজশাহীতে আশামিকে ধরে গাড়িতে তুলার পর মৃ///ত্যু” ক্যাপশনে লেখা, “রাজশাহীতে 💔💔”।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৮৮ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং দুই শর বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৯০০-র বেশি ব্যবহারকারী। একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনাটি সত্য বলে ধরে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “পুলিশ বাংলাদেশের জন্য একটি ঘাতক দালাল বাহিনী।” আরেকজন লিখেছেন, “মেরে ফেলেছে পুলিশ।”
সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডি টোয়েন্টিফোর রিপোর্টের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল প্রকাশিত সেই ভিডিও প্রতিবেদনের ক্যাপশনে লেখা, “ডা/কাত ধ’রতে কাদায় আধাকিলোমিটার দৌড়ালেন পুলিশ! তবে গ্রে’ফতার করতে স’ক্ষম”।

একই দিনে সংবাদমাধ্যম বৈশাখী টিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলেও একই ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওর ভেতরে শিরোনামে লেখা, “কাদামাটি মেখে ডাকাত ধরে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ।” ভিডিওর একপাশে লেখা ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’। ১৬ সেকেন্ডের ভিডিও দুইটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যপটের হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪) সামনে আসে ডিসমিসল্যাবের। সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের কেনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে জমিতে লুকিয়ে থাকা মুর্শিদ নামের ওই ডাকাতকে ধরতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে কর্দমাক্ত জমিতে নেমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ডাকাত ধরতে গিয়ে কর্দমাক্ত হয়ে যান পাঁচ পুলিশ সদস্য। প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি। তবে কোনো সংবাদমাধ্যমে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
এ প্রসঙ্গে নিশ্চিত হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ডিসমিসল্যাবকে জানান, ভিডিওতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবরটি সঠিক নয়। বর্তমানে তিনি এখন জেলহাজতে আছেন বলেও নিশ্চিত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অর্থাৎ, রাজশাহীতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। আর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মারা যাওয়ার দাবিটিও ভিত্তিহীন; বর্তমানে তিনি জেলহাজতে আছেন।