জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সভাপতি হয়েছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই এই ইতিহাস তৈরি হয়েছিল – এই দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। ২০১৬ সালে রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘে কোনো পদেই ছিলেন না।
গত ২৪ সেপ্টেম্বরে (২০২৬) ‘মুজিব আমার চেতনা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয় – “রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘ সভাপতি ২০১৬। বিএনপি শুধু ভাবছে ওদের কেউ জাতিসংঘে সভাপতি হইছে,ওদের আগেই শেখ হাসিনার এ ইতিহাস গড়া। 🇧🇩” (বানান অপরিবর্তিত)
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি, শেয়ার হয়েছে ২৭৭ বার এবং দেখা হয়েছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজারের বেশি বার।
একই দাবিতে একাধিক ফেসবুক পেজ (১,২) ও ব্যক্তিগত একাউন্ট (১,২) থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রাবাব ফাতিমার কর্মজীবনের সময়রেখা অনুসন্ধান করে ডিসমিসল্যাব। এতে দেখা যায়, ২০১৬ সালে তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নেন ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর।
এরপর ধাপে ধাপে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন রাবাব ফাতিমা। ২০২০ সালে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হন। একই বছরের ডিসেম্বরে ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০২২ সালে তিনি জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি), স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ (এলএলডিসি) ও ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জের উন্নয়নশীল দেশের (এসআইডিএস) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) প্রথম নারী সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের জুনে তাকে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়।
অর্থাৎ তার এসব পদপ্রাপ্তির কোনোটিই ২০১৬ সালে হয়নি এবং কোনোটিই জাতিসংঘের সভাপতি পদ নয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে এ পর্যন্ত দুজন বাংলাদেশি দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে প্রথম এই দায়িত্ব পালন করেন। এর প্রায় চার দশক পর, চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নেন।

অর্থাৎ, ২০১৬ সালে রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘের কোনো পদেই ছিলেন না। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হন ২০১৯ সালে। পরের বছরগুলোয় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার নির্বাহী বোর্ডে সভাপতি ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি কখনো হননি। বর্তমানে তিনি আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হিসেবে কর্মরত।

