সম্প্রতি এক্সে একটি মিছিলের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীপাবলি উদ্যাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি পুরোনো।
মেঘ আপডেটস নামে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত শনিবার দুইটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টের ইংরেজি ক্যাপশন বাংলা করলে দাঁড়ায়, “দীপাবলির প্রাক্কালে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ধর্মান্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে দীপাবলি উদ্যাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে। তারা এই উৎসবকে ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন’ এবং ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পাসে ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপিত হওয়া সত্ত্বেও তারা হিন্দু শিক্ষার্থীদের তাদের উৎসব পালনে বাধা দিচ্ছে। পরিহাসের বিষয় হলো, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শুরুটা হয়েছিল হিন্দু জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরীর হাত ধরে।”
২৫ সেকেন্ডের প্রথম ভিডিওতে একজনকে একাধিক সংবাদমাধ্যমের (দৈনিক ইনকিলাব, সময়ের আলো) বুমের সামনে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, কোনো ভারতীয় আগ্রাসন চলবে না। আমরা মেনে নিব না। এখানে, ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় যেটা দাবি রাখে, মুসলমানদের কৃষ্টি-কালচার-সংস্কৃতিকে লালন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে। এর কোনো ব্যত্যয় যদি কেউ দেখাতে চায়, সেটার তীব্র জবাব বাংলাদেশের জনগণ দিবে ইনশাল্লাহ।”
২২ সেকেন্ডের দ্বিতীয় ভিডিওতে স্লোগানে মুখরিত একটি মিছিল দেখা যায়। বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার”, “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা”, “তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার; গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার”।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটি ১৯ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং দুই শতাধিক বার রিপোস্ট করা হয়েছে। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “এদের গঙ্গার পানি বন্ধ করে দাও। রাম রাম বলতে দেখা যাবে।” আরেকজন লিখেছেন, “একইভাবে, ভারতীয়দের অন্তত এক বছরের জন্য ভারতে মুসলমানদের উৎসব উদ্যাপনের প্রতিবাদ করা উচিত।”

ভিডিওর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে সমকালে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে দ্বিতীয় ভিডিওর দৃশ্য যেমন মিছিলের স্থান, মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও তাদের পোশাক পুরোপুরি মিলে যায়। গত ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের শিরোনাম, “‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানে উত্তাল জবি, গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ”।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জকসুর নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে দ্য ঢাকা নিউজের ফেসবুক পেজে একই দিনে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ২২ সেকেন্ডের ভিডিওটির প্রতিটি দৃশ্য ও দৃশ্যের ধারাবাহিকতা সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া পোস্টের দ্বিতীয় ভিডিওর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। দ্য ঢাকা নিউজ তাদের এই প্রতিবেদনে বর্ণনায় লিখেছে, “পশু জ/বা/ই নি/ষি/দ্ধে সিদ্ধান্তে মধ্যরাতে উ/ত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়”।

অধিকতর অনুসন্ধানে বিডি টোয়েন্টিফোর রিপোর্টের ফেসবুক পেজে ১৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ১৪ অক্টোবর লাইভ সম্প্রচার হওয়া এই ভিডিওর ১০ মিনিট ২২ সেকেন্ড থেকে ১০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড পর্যন্ত-এই ২৫ সেকেন্ড সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া প্রথম ভিডিওর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ভিডিও দুইটিতে বক্তার বক্তব্য, সামনে রাখা বুম, বক্তার ও তার আশাপাশের ব্যক্তিদের পোশাক, পেছনের ভবন সকল উপাদানেই মিল দেখা যায়। এই লাইভের বর্ণনায় লেখা, “জবি প্রশাসনের বি”তর্কিত নির্দেশনার প্রতিবাদে জকসুর বি’ক্ষো’ভ মিছিল।”
প্রসঙ্গত, ৮ নভেম্বর হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা উদ্যাপন হচ্ছে। একই সঙ্গে শুভ দীপাবলি উৎসবও পালিত হচ্ছে।
অর্থাৎ, ভিডিওটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে প্রশাসনের বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে করা বিক্ষোভ সমাবেশের, দীপাবলি উদ্যাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নয়।

