কক্সবাজারে যুবলীগের তিন সক্রিয় কর্মীকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দৃশ্যটি কক্সবাজারের নয়। এটি গত ৬ জুলাই খাগড়াছড়ির পানছড়িতে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠনের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনার দৃশ্য।
‘নাইমুল ভাই’ (Naimul Vai) নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ৭ নভেম্বর ৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা হয়, “এইমাত্র কক্সবাজারের যুবলীগের তিনজন সক্রিয় কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।” এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ওই পোস্টে পাঁচশর বেশি প্রতিক্রিয়া এসেছে। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে শতাধিক বার।

একই দাবিতে দৃশ্যটি আরও কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়েছে (১, ২)।
ভিডিওতে একটি পাকা সড়কের পাশে তিনজন ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের পাশেই টিনের তৈরি একটি অবকাঠামো রয়েছে ও সেখানে দুইটি পোস্টার লাগানো। সড়কের ওপর একটি কালো রঙের টুপিও পড়ে আছে। পাশে একটি সিএনজি চালিত থ্রি হুইলারের সামনের অংশ দেখা যায়।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করা হলে গত ৬ জুলাই দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। “খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলি, নিহত ৩” শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে একই দৃশ্যের ছবি রয়েছে। ছবিতে সড়কের পাশে থাকা টিনের কাঠামো ও তাতে লাগানো পোস্টার, তিন ব্যক্তির অবস্থান, মাটিতে পড়ে থাকা কালো টুপি এবং আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে প্রচারিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত ৬ জুলাই খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হন।

একই ঘটনার ছবি পাওয়া যায় গত ৬ জুলাই এনটিভিতে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে। “আধিপত্য নিয়ে দুপক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ৩” শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন বেলা ১১টার দিকে পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হন। পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ ছাড়া গত ৬ জুলাই এটিএন নিউজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। “খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএসের গোলাগুলি, নিহত ৩” শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনগুলোতে স্থানীয় সূত্রের বরাতে নিহত ব্যক্তিদের ইউপিডিএফ সদস্য বলে উল্লেখ করা হলেও ডিসমিসল্যাব তাদের সাংগঠনিক পরিচয় স্বাধীনভাবে জানতে পারেনি। তবে দৃশ্যগত মিল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে ছবি বা ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়।
অর্থাৎ, কক্সবাজারে যুবলীগের তিন সক্রিয় কর্মীকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে, এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূলত খাগড়াছড়িতে দুটি সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনার।

