
দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ঘটনাটি দিনাজপুরে নয়, ঘটেছে হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় গত ২৬ জুন এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রচারিত ভিডিওটি সেই ঘটনা পরবর্তী দৃশ্যের।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২৯ জুন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি লন্ডভন্ড বাড়ি দেখা যাচ্ছে। বিক্ষিপ্তভাবে আসবাবপত্র ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়া, বাড়ির একাধিক অংশের দেওয়াল ভাঙা ছিল। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “দিনাজপুর আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।” (লেখা অপরিবর্তিত)

এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার আগ পর্যন্ত, ভিডিওটি প্রায় ৫৬ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং ১ হাজার ৩০০ এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৩ হাজার ৮০০-র বেশি ব্যবহারকারী। মন্তব্য পড়ে বোঝা যায়, একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও থেকে একাধিক কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ নামের সংবাদমাধ্যমে গত ২৭ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “লাখাইয়ে বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাট”। প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সাথে ভিডিওতে থাকা ভাঙচুর করা বাড়িটির সামনের অংশের হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
অধিকতর যাচাইয়ে প্রতিবেদন থেকে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪) ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়।
সংবাদমাধ্যম এটিএন নিউজে গত ২৭ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ফুটেজে, পিছনে দৃশ্যমান ভাঙা ঘরটির বিভিন্ন অংশের সাথে প্রচারিত ভিডিওতে ব্যবহৃত স্থাপনার মিল রয়েছে।
‘দৈনিক বাংলার খবরে’ ২৭ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাচ্চু মিয়া (৭৯) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন দিবাগত রাত এবং ২৬ জুন শুক্রবার দিনভর এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৯ জুন মারা যান বাচ্চু মিয়া। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দফায় দফায় তার গোষ্ঠীর লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনি জটিলতা ও গ্রেপ্তার এড়াতে প্রতিপক্ষের বাড়িগুলো আগে থেকেই পুরুষশূন্য ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্বের মারামারিতে পাওয়া আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, দিনাজপুরের আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলার দাবি করা হলেও ভিডিওটির দৃশ্য হবিগঞ্জের লাখাইয়ের। এই ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।