নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
ফ্যাক্টচেক বিএনপির কর্মী নয়, ভিডিওর ব্যক্তিকে নির্যাতন করছিল যুবলীগ সংশ্লিষ্টরা

বিএনপির কর্মী নয়, ভাইরাল ভিডিওতে নির্যাতন করছিল যুবলীগ সংশ্লিষ্টরা

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

গাজীপুরের মিছিল কেন্দ্র করে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে আক্রমণ চালাচ্ছে বিএনপির কর্মীরা। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে করা হচ্ছে এমন দাবি। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে কক্সবাজারের চকরিয়ায় এলাকায় এক ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে একটি খোলা মাঠে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে কিছু সন্ত্রাসী। প্রতিবেদনগুলোতে তাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমের লোক বলে। নির্যাতনের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

“বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” নামের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ফেসবুকে গত ৪ জুলাই একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “বি এন পি নেতারা কি করে অপরাধ এইটাই ছেলে আওয়ামী লীগ করে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই গাজীপুরের মিছিল কে কেন্দ্র করে এক ছাত্রলীগের বাড়িতে যেয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে বিএনপির কর্মীরা এবং সেই সাথে পুলিশ দিয়ে ধরায় দিয়ার হুমকি দেয় মা বাবার সামনে… এই রকম হুমকি দিয়ে দাবায় রাখতে পারবি না…।”

ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি মাঠে এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে বেশ কিছু ব্যক্তি বিবস্ত্র করে নির্যাতন করছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ১ লক্ষ ৭৮ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে ভিডিওটি, শেয়ার হয়েছে ৬ হাজার ৯০০ বারের বেশি।

ফেসবুকের একাধিক (,,,,,) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক বিএনপির কর্মী নয়, ভিডিওর ব্যক্তিকে  নির্যাতন করছিল যুবলীগ সংশ্লিষ্টরা
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২০ সালের ৩ জুনের একটি প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “কক্সবাজারে বৃদ্ধকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, আটক ৩।” এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মামলার এজাহারে বলা হয়, “গত ২৪ মে ঈদের কেনাকাটা শেষ করে বৃদ্ধ নুরুল আলম ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে ইজিবাইক (টমটম) যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমের লালিত সন্ত্রাসীদল তাকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে একটি খোলা মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে বৃদ্ধের লুঙ্গি ও গেঞ্জি টেনে হিঁচড়ে ছিড়ে ফেলে। এক পর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে চড়- থাপ্পড় মারতে থাকে তারা। এ সময় ওই বৃদ্ধকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে আনছুর আলম। এ সময় দৃশ্যটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন যুবক মোবাইল ফোনে ধারণ করছিল।”

বিএনপির কর্মী নয়, ভাইরাল ভিডিওতে নির্যাতন করছিল যুবলীগ সংশ্লিষ্টরা
মূল ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।

এছাড়াও একাধিক (,,,) গণমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইত্তেফাকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়, “জানা যায়, গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় নির্যাতনের শিকার হন নুরুল আলম (৭২)। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল বখাটে যুবক ঘটনাটি ঘটায়।”

অর্থাৎ, নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে যুবলীগ সভাপতি ও তার অনুসারীরা জড়িত থাকলেও, সেই পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বিএনপি কর্মীর দাবিতে। 

আরো কিছু লেখা