সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Indian police detain Imams and send them to jail fact- check

ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদের ধরে নিয়ে যাওয়ার দাবিটি ভুয়া

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদের ধরে জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে নামাজ পড়াতে না পারে- এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি মসজিদের ইমামদের গ্রেপ্তারের দৃশ্য নয়। একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ভিডিওটি প্রায় ৩ মাস পুরোনো, উত্তর প্রদেশের একটি ভিন্ন ঘটনার।

ফেসবুকে “মাহবুর অরিজিনাল ০.২” নামের একটি পেজ থেকে গত ১১ জুন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম অংশে দেখা যায়, কয়েকজন টুপি-পাঞ্জাবি পরা প্রবীণ ব্যক্তি পুলিশের সাথে হেঁটে সামনের দিকে যাচ্ছে। পুরো ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলছেন, “ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে জেলে যাতে নামাজ পড়াতে না পারে। তোমরা যতই ফন্দি আঁট, কোনো লাভ হবে না। ইমামরা নামাজ পড়বে জেলে আর বাকি মানুষেরা নামাজ পড়বে বাহিরে। তোমরা মুসলমানদের পিছনে যতই লাগো, সময় একদিন এমন আসবে, এই মুসলমানদের আল্লাহু আকবার তাকবীরের ধ্বনিতে ভারতের মাটি থরথরে কাঁপবে। তোমাদের অযথা মন্তব্য, এই মুসলমানদের জয়ের গন্তব্য, কোনোদিনও ঠেকাতে পারবে না” ( ভাষা অপরিবর্তিত)। ক্যাপশনে লেখা, “ভারতে  ইমামদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে জেলে”।

Imams are taken into Police Custody in India fact-check
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ২৮ লাখের অধিক দেখা হয়েছে এবং ২১ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৯৩ হাজারের অধিক ব্যবহারকারী। একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনাটি সত্য বলে ধরে নিয়ে হাজারখানেকের বেশি মন্তব্যে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, “আমাদের দিন এক দিন আসবে ইনশাআল্লাহ”, আরেকজন লিখেছেন, “সেই সময়ের অপেক্ষায় বসে থাক”।

ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও থেকে একাধিক কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে “গালি নিউজ ইন্ডিয়া” নামের একটি ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনের লেখা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “শিয়া-সুন্নি ১৯৯৯ মুবারকপুর দাঙ্গা মামলায়: ২৭ বছর পর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড”। এই ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের সাদৃশ্য রয়েছে।

Imams being sent to jail in India fact-check
মূল ঘটনা নিয়ে পাওয়া ইনস্টাগ্রাম পোস্টের স্ক্রিনশট।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। সার্চে দেখা যায়, একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম (,,,,,,,) ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের উত্তর প্রদেশের। রাজ্যের মুবারকপুর জেলার আজমগড়ে ১৯৯৯ সালে শিয়া-সুন্নি অনুসারীদের মধ্যে সহিংসতায় শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য আলী আকবর নিহত হন। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি স্থানীয় আদালত ঘটনার সাথে জড়িত ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

Imams being arrested in India fact-check
মূল ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও (বামে) ও অনলাইন (ডানে) প্রতিবেদন।

অর্থাৎ, ঘটনাটি ভারতে মসজিদের ইমামদের গ্রেপ্তারের নয়, বরং আজমগড়ে শিয়া-সুন্নি সহিংসতায় ২৭ বছর আগের একটি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের বিচারের জন্য আদালতে নেওয়ার দৃশ্য এটি।

আরো কিছু লেখা