মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্ট চেক: মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে ইতিহাসের বিভ্রাট

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিহাসের বিভ্রাট

১৯৭৬-এ বিদায় নেওয়া ভাসানী কীভাবে ১৯৭৯-এ ধানের শীষ প্রতীক দিলেন?

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি এক বক্তব্যে দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের সময় আবদুল হামিদ খান ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে টাঙ্গাইলে যান প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। সেদিনই প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

ভিডিওর ৩ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, “এই মওলানা ভাসানীর একটি প্রতীক ছিল। বলেন তো তার প্রতীকটা কী ছিল? ধানের শীষ। এই মওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল কিন্তু ধানের শীষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বভার পেলেন, মওলানা ভাসানী দেখলেন যে, ভাসানী সারাটা জীবন দেশের জন্য যেই কষ্টটা করেছেন, কাজ করতে চেয়েছেন, দেশের মানুষের যে কথাগুলো বলতে চেয়েছেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই কথাগুলো বলছেন এবং সেই কাজগুলোই করার চেষ্টা করছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেজন্যই যখন ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো, সেই সময় মওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেদিন থেকে মওলানা ভাসানীর সেই ধানের শীষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি, শহীদ জিয়া, শহীদ জিয়ার পরে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার পরে আপনারা যারা বিএনপির নেতাকর্মী— সেই ধানের শীষকে জনগণের মাঝে নিয়ে গিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ভিডিওর একাংশ।

বিএনপির ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিওতেও প্রধানমন্ত্রীকে একই কথা বলতে শোনা যায়।

সত্যতা যাচাইয়ে সংগ্রামের নোটবুক নামের ওয়েবসাইট থেকে পুরোনো পত্রিকার আর্কাইভ বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব। এতে সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর ১৯৭৬ সালের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত পত্রিকার একটি আর্কাইভ খুঁজে পাওয়া যায়। পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, ‘সংগ্রামের নোটবুক’ থেকে পাওয়া ‘দৈনিক বাংলা’ ও ‘দ্য বাংলাদেশ অবজারভার’ পত্রিকার আর্কাইভেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

ফ্যাক্ট চেক: মাওলানা ভাসানীর ধানের -শীষ প্রতীক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে ইতিহাসের বিভ্রাট
দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা’ এবং দ্য বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত ছবি।

অর্থাৎ, ১৯৭৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মধ্যে কথোপকথন হওয়া সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্যটি বাস্তবসম্মত নয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৯ সালে। এর মাঝে সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন হয়েছিল শুধু ১৯৭৮ সালে। সে বছরের ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত গণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

আরো কিছু লেখা