মেঝেতে পড়ে থাকা তিন শিশুর একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীর পরিবারের তিন শিশুকে হত্যা করেছে “মব সন্ত্রাসী বাহিনী।” তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। ছবিটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনার।
গত ১ নভেম্বর ‘জয়বাংলা ফেসবুক যোদ্ধা গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ছবিটি পোস্ট করা হয়। একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে মেঝেতে শুয়ে থাকা তিন শিশুকে দেখা যায়। পোস্টে লেখা ছিল, “এদের কি দোষ ছিল? বগুড়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীর এক পরিবারের তিন শিশু সন্তানকে হত্যা করেছে বর্তমানে মব সন্ত্রাসী বাহিনীরা।”
এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় তিনশ প্রতিক্রিয়া এসেছে। ছবিটি ১৭০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে।
একই দাবিতে ছবিটি ফেসবুকের আরও একাধিক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩) থেকে ছড়ানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকের একটি প্রোফাইলে আপলোড করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে দৃশ্যমান মেঝে, দেয়ালের কিনারা ও শিশুদের পোশাকের সঙ্গে ছড়ানো ছবির দৃশ্য মিলে যায়। পোস্টের বর্ণনায় শুরুতে লেখা ছিল, “সুনামগঞ্জ তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলো বাবা।” পোস্টের বাকি অংশে ঘটনাস্থল হিসেবে তাহিরপুরের কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বাবা।
২০ সেপ্টেম্বর ফেসবুকের আরেকটি প্রোফাইলেও একই ভিডিও পোস্ট করা হয়। এই পোস্টে স্থান হিসেবে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামের নাম লেখা ছিল। আরও বলা হয়েছে এই ঘটনাটি ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার ভোররাতে ঘটেছে।
সিএন বাংলা (CNবাংলা) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ১৯ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর শিরোনাম ‘সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কীটনাশক খাইয়ে তিন অবুঝ সন্তানকে হত্যা, পিতার অবস্থা আশংকাজনক।’ ভিডিওতে একটি পিকআপ ভ্যানে তিনটি শিশু দেখা যায়। ছড়ানো ছবির শিশুদের পোশাক ও এই ভিডিওটির শিশুদের পোশাকের মধ্যে মিল দেখা যাচ্ছে।

সেদিনই একাধিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটির সংবাদ প্রকাশিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, রজনীলাইন গ্রামে স্বজন ও প্রতিবেশীরা শিশুদের ও তাদের বাবাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফৌজিয়া জামান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। বাবাকে পাঠানো হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
একই দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়, তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আরও জানান, শিশুদের বাবার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফ্যাক্টচেকে জানানো হয়, একই ঘটনার ছবি ও ভিডিও বগুড়ার নামে ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে খুঁজে বগুড়ায় এমন কোনো ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ, ছবিটি বগুড়ার নয়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনার।

