ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর হামলার দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি ভুয়া। সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় এক রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা করতে যাওয়া এক ব্যক্তিকে আটকের দৃশ্য এটি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২৯ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি হলের মধ্যে অনেক মানুষের মারামারি ও ধস্তাধস্তির একটি ঝাপসা ফুটেজ দেখা যাচ্ছে। পোস্টদাতা লিখেছেন, “ব্রেকিং 🚨 তেল আবিবে নেতানিয়াহুর ওপর একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হামলা হয়েছে; ধারণা করা হচ্ছে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিমান পাঠানো হচ্ছে।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভিডিওটি ১৮ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ২৮৫ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে একশর বেশি বার।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩), পেজ ও গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ডিসমিসল্যাব ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারিতে প্রকাশিত ১ মিনিট ০৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায়। প্রতিবেদনের ৬ সেকেন্ডে থেকে ২৪ সেকেন্ড অংশের দৃশ্যের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টেলিভিশনে সরাসরি বক্তব্য প্রদানের সময় বুলগেরিয়ার মুভমেন্ট ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের (এমআরএফ) নেতা আহমেদ দোগানের ওপর হামলার ঘটনার দৃশ্য এটি। এক যুবক হত্যার উদ্দেশ্যে আহমেদ দোগানের ওপর বন্দুক নিয়ে হামলা চালায়। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দুকধারীর অস্ত্রটি ঠিকমতো কাজ না করায় আহমেদ দোগান আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা পদক্ষেপ নেন। পরবর্তীতে দেহরক্ষীরা তাকে সুরক্ষিত করেন।

বিস্তারিত জানতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে দেখা যায়, একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা (১, ২, ৩, ৪) ঘটনাটি নিয়ে সেসময় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াতে ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি এক দলীয় সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তুর্কি সংখ্যালঘু দলের নেতা দোগানের দিকে এক ব্যক্তি গ্যাস পিস্তল তাক করলে পুলিশ তাকে আটক করে। এই ঘটনায় কোনো গুলি চালানো হয়নি।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হামলা শিকার বা আহত হয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার কোনো খবর আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, তেল আবিবে নেতানিয়াহুর উপর হামলার দাবিতে প্রচারিত প্রচারিত ভিডিওটি ভুয়া। ১৩ বছরের পুরোনো বুলগেরিয়ার ভিন্ন ঘটনার ভিডিও দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

