মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Factchecking Bangladesh Sajek hill track Nigeria armed force

সন্ত্রাসীদের পাহাড় দখলের চেষ্টার দাবিতে নাইজেরিয়ার পুরোনো ভিডিও প্রচার

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি সাজেকে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির খবরের পর পাহাড়ি এলাকা ‘সন্ত্রাসীদের দখল’ করতে চায় দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। অন্তত ২০২১ সালের নভেম্বর থেকেই এটি অনলাইনে রয়েছে। সে সময় নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর অভিযান নিয়ে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছিল।

‘রংপুর এডিশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সাত সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, “পাহারে স/ন্ত্রা/সী/রা এভাবে দখলে নিতে চায় পাহাড় স/ন্ত্রা/সী মুক্ত করতে সেনা/বা/হি/নীর কঠোর পরিশ্রম করছেন।” ভিডিওর ওপরেও পাহাড় দখলের চেষ্টার বিষয়ে একই ধরনের বক্তব্য লেখা রয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১০ লাখের বেশিবার। প্রতিক্রিয়া পড়েছে সাত হাজারের বেশি। আর পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে এক হাজারের বেশিবার।

ভিডিওতে সামরিক পোশাক পরা কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে দেখা যায়। তাদের আশপাশে ঘরবাড়ি ও গাছপালা রয়েছে। একপর্যায়ে একজনকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায় এবং গুলির শব্দ শোনা যায়।

২০২১ সালের ২ নভেম্বর ‘Ola TEMIDAYO’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একই দৃশ্যের ভিডিওর স্ক্রিনশট

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ইউটিউবে ২০২১ সালের ২ নভেম্বর প্রকাশিত একই দৃশ্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘ওলা তেমিদায়ো’ (Ola TEMIDAYO) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওটির শিরোনামে লেখা রয়েছে, “এরা কারা। তাদের একজন হাউসা ভাষায় কথা বলছে, নিশ্চিত উত্তরের কেউ।” 

ইউটিউবের ভিডিওতে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের পোশাক, অস্ত্র, চলাচল এবং আশপাশের ঘরবাড়ির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

অধিকতর যাচাইয়ে ২০২১ সালের ২ নভেম্বর নাইজেরিয়ার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট আইকনস নিউজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই ভিডিও পাওয়া যায়। নাইজেরিয়ার এনুগু রাজ্যের আওগু এলাকার মগবোও গ্রামে সামরিক অভিযানের অভিযোগ নিয়ে করা ওই প্রতিবেদনে একই ব্যক্তিদের দেখা যায়, এমন একাধিক ভিডিও রয়েছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বলা হয়, ওই বছরের ১ নভেম্বর নাইজেরিয়ার সেনাসদস্যরা এলাকায় প্রবেশ করে গুলি চালান। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

২০২১ সালে নাইজেরিয়ার সামরিক অভিযানের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত আইকনস নিউজের প্রতিবেদন ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডুবাওয়ার ফ্যাক্টচেকে একই ভিডিওর দৃশ্য পাওয়া যায়

পরে একই ঘটনা নিয়ে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর নাইজেরিয়ার অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ফাউন্ডেশন ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের (এফআইজে) থেকে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়। এতে সে সময় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদনে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের সামরিক পোশাকের নকশা নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর পোশাকের তুলনা করা হয়।

ভিডিওটি নিয়ে নাইজেরিয়ার তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডুবাওয়া (Dubawa)ও একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ২০২১ সালের ২ নভেম্বর সাহারা রিপোর্টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে ভিডিওটির ঘটনাস্থল হিসেবে নাইজেরিয়ার এবোনি রাজ্যের একটি গ্রামের কথা বলা হয়। অর্থাৎ, ভিডিওটির সুনির্দিষ্ট ধারণস্থান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের দখল চেষ্টার দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার দৃশ্য নয়। ইতোপূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ছড়ানো একাধিক অপতথ্য নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব (১, ২, ৩)।  

আরো কিছু লেখা