সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি সমাবেশের মঞ্চে “আমার দেশ” পত্রিকা উঁচিয়ে ধরেছেন, আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন ওই পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলছেন- এমন একটি তুলনামূলক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার হাতে পত্রিকা ধরা ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত। প্রকৃতপক্ষে, মূল ছবিতে পত্রিকা ছাড়া তার খালি হাতের দৃশ্য এআই দিয়ে সম্পাদনা করে আমার দেশ পত্রিকা যুক্ত করা হয়েছে।
ফেসবুকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন শিশিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১ নভেম্বর একটি ছবি পোস্ট (আর্কাইভ) করা হয়। ছবিটির বাম অংশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আমার দেশ পত্রিকা উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। আর ডান অংশে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলছেন। ছবিটির নিচের অংশে লেখা, ‘‘বেগম খালেদা জিয়ার হাতে আমার দেশ পত্রিকা। অন্যদিকে নব্য বিএনপি রাশেদ খানের হাতে আমার দেশ পত্রিকা।” পোস্টে শিশির লেখেন, “অপছন্দ হলেই ছিঁড়ে ফেলবেন? তাহলে রাঁশেদ খানও এদেশের মানুষের অপছন্দের তালিকায় শীর্ষে।” প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটি ৫০ বার শেয়ার করা হয়েছে।
প্রচারিত ছবিটিতে আমার দেশ পত্রিকা হাতে খালেদা জিয়ার অংশে বেশকিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে। বক্তব্যরত খালেদা জিয়ার সামনে রাখা বিভিন্ন গণমাধ্যমের বুমের ছবি বিকৃত অবস্থায় দেখা যায়। তার সামনের মাইক্রোফোনের লেখাটিও অস্পষ্ট। খালেদা জিয়ার হাতে থাকা আমার দেশ পত্রিকার শিরোনাম লেখা, “হাসিনা লাশের রাজত্ব কায়েম করছে।” তবে “রাজত্ব” শব্দটি এখানে বিকৃত। আবার ওই শিরোনামটি ছাড়া অন্য সংবাদগুলোও অস্পষ্ট।
যাচাইয়ে এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থ আইডি দিয়ে ছবির ওই অংশটি পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। ফলাফলে জানা যায়, ছবিটি ওপেন এআই-এর মডেল ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।
অধিকতর যাচাইয়ে ছবিটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রায় একই ছবি পাওয়া যায়। প্রকাশিত ছবিতে দৃশ্যমান বক্তব্যরত খালেদা জিয়া, মাইক্রোফোন, সংবাদমাধ্যমের বুম ছড়িয়ে পড়ার ছবির সঙ্গে মিলে যায়। তবে ওই ছবিতে খালেদা জিয়ার হাতে কোনো পত্রিকা দেখা যায় না।

বক্তব্যরত খালেদা জিয়ার ছবিটি কোন সমাবেশের তা জানতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বরে আপলোড করা একটি ভিডিও সামনে আসে ডিসমিসল্যাবের। ভিডিওটি আপলোড করা হয় “যশোর জেলা বিএনপি” নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে। ভিডিওর ভেতরে এটিকে একই বছরের ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশের একটি ভিডিও বলে উল্লেখ করা হয়। ১ ঘন্টা ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের সেই বক্তব্যের কোথাও বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো পত্রিকা হাতে দেখা যায়নি। অর্থাৎ, ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদনা করে তার হাতে “আমার দেশ” পত্রিকাটি বসানো হয়েছে।
এছাড়া, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিলে আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা আবার চালু হয় ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর।
তবে, এই ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত হলেও, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার অন্য কোনো ভাষণে আমার দেশ পত্রিকা এভাবে তুলে ধরেছেন কিনা সেটি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এক ফেসবুক লাইভে পত্রিকাটির কপি ছিঁড়ে ফেলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

