নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক ওসমান হাদির কবর ঢাবি থেকে সরানোর ভুয়া দাবি

ওসমান হাদির কবর সরানোর দাবিটি ভুয়া

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির কবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন – এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবিটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল সমাধি প্রাঙ্গণে ওসমান হাদির কবর খোঁড়ার ছবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছেন, কবর সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “প্রজন্মের বেয়াদব গালিবাজ হাদীর কবর সরিয়ে নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। (সোর্স ফেসবুক)।” ছবিতে কিছু ব্যক্তিকে কবর খুঁড়তে দেখা যায়। ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়। 

ফ্যাক্টচেক ওসমান হাদির কবর ঢাবি থেকে সরানোর ভুয়া দাবি
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বরে দৈনিক ইনকিলাবের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ছবিটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে লেখা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভায় প্রয়াত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির দাফনস্থল হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধি প্রাঙ্গণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি অনলাইন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমদ।” এছাড়াও একাধিক ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একাধিক (১, ২, ৩, ৪) প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেখানে ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে লেখা হয়, ওসমান হাদিকে সমাহিত করতে কবর খোঁড়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ছবিটি পুরোনো।

ফ্যাক্টচেক ওসমান হাদির কবর ঢাবি থেকে সরানোর ভুয়া দাবি
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটি

অধিকতর যাচাইয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করে বলেন, “কবর সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।”

আরো কিছু লেখা