নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে সেনাবাহিনী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।
ব্লিটজ পত্রিকার সম্পাদক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৮ আগস্ট একটি ভিডিও পোস্ট করেন। পোস্টে ইংরেজিতে যা লেখা তা বাংলা করলে দাঁড়ায়, “বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার আলিম মাদ্রাসা থেকে সেনাবাহিনী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।”
২২ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “মাদ্রাসা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় আলিম মাদ্রাসায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে মাদ্রাসার রান্নাঘর থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আটক। সেনাবাহিনী আরও জানায়, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১৫ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, পোস্টটি শেয়ার হয়েছে প্রায় চারশ বার। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “এখন সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে যে এটি সরকারকে উৎখাত করতে ব্যবহার করা হবে এবং তারা প্রথম শিকারদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” ভারত থেকে পরিচালিত এক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন লিখেছেন, “গভীরভাবে পরিদর্শন করা হলে ভারতের মাদ্রাসাতেও হাতিয়ার পাওয়া যেতে পারে…।” আরেকজন লিখেছেন, “এতগুলো বন্দুক এবং এত পরিমাণ গোলাবারুদ থাকা সত্ত্বেও, অস্ত্র পাচার মামলার মূল অপরাধীকে কেন শেষ করে দিচ্ছে না?”

একই ভিডিও কিংবা ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি ছড়িয়ে পড়েছে আরও একাধিক ফেসবুক (১, ২, ৩) ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও। ফেসবুক পেজ বিডিরেজিস্টস থেকে শুরু করে নিজেদের সংবাদমাধ্যম দাবি করা “বিচিত্রা নিউজ”ও রয়েছে, যারা গত ৫ আগস্ট ভিডিওটি প্রচার করেছে।
পর্যবেক্ষণে ভিডিওতে নানা অসঙ্গতি নজরে আসে ডিসমিসল্যাবের। এতে পেছনের সাইনবোর্ডে বাংলা লেখার বানান অস্পষ্ট এবং ইংরেজি লেখার বানান ভুল। সেনাসদস্য যখন টেবিলের উপর হাত নাড়াচাড়া করছেন, তখন অস্ত্র ও পিস্তলগুলোর আকৃতি অসংগতভাবে পরিবর্তিত ও বিকৃত হচ্ছে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা যায়।

এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, এই ভিডিও এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ৯৯.৪% এবং এর অডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.১%। অধিকতর যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থ-আইডি দিয়ে পরীক্ষা করে। গুগল সিন্থআইডি ফলাফলে জানায়, “এই ভিডিওর অডিও এবং দৃশ্য উভয় ক্ষেত্রেই শনাক্ত হওয়া সিন্থআইডি ওয়াটারমার্কের উপস্থিতি নির্দেশ করে, এটি গুগলের এআই ব্যবহার করে সম্পাদনা বা তৈরি করা হয়েছে।”
এ ছাড়া, নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও নোয়াখালীর আলিম মাদ্রাসা থেকে সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, নোয়াখালীর মাদ্রাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাস্তব নয়, এআই দিয়ে বানানো।

