মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Factchecking Messi Neymar Old Video

মেসির বিদায়ে নেইমারের উপস্থিতি দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পুরোনো

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখতে নেইমার জুনিয়র আর্জেন্টিনায় গেছেন, এমন দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি আর্জেন্টিনায় মেসির বিদায়ী ম্যাচের সময়কার নয়। এটি ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের মাসেইওতে (Maceió) সিআরবি ও সান্তোস এফসির মধ্যকার কোপা দো ব্রাজিল ম্যাচের আগে হোটেল থেকে নেইমারের বের হওয়ার দৃশ্য।

৭ অক্টোবর ক্রীড়া বিষয়ক অনলাইন সংবাদমাধ্যম “বিডিস্পোর্টসটাইমের(BDSportsTime)” ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “মেসির খেলা দেখতে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় ছুটে এসেছেন নেইমার।” ভিডিওতে সাদা টি-শার্ট ও কালো শর্টস পরা নেইমারকে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ভক্তদের ভিড়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটিতে ১০ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভিডিও শেয়ার হয়েছে শতাধিকবার।

বিডিস্পোর্টসটাইম ছাড়াও আরও একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবিতে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে (১, ২)। 

‘এআইডব্লিউএবিআর’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘সান্তোসটিভি’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া একই দৃশ্যের পুরোনো ভিডিওর স্ক্রিনশট

ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। এতে ‘এআইডাব্লিউএবিআর’ (aiwabr) নামের একটি ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ২৪ মে পোস্ট হওয়া একই ভিডিও পাওয়া যায়। পর্তুগিজ ভাষায় পোস্টের ক্যাপশনে লেখা “গতকাল মাসেইওতে নেইমার জুনিয়রের আগমন, সঙ্গে এআইডাব্লিউএ (AIWA) ইয়ারবাডস।”

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে খুঁজলে ২০২৫ সালের ২২ মে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম রেডিও ইতাচিয়াইয়ার (Rádio Itatiaia) একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন মাসেইওতে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় ভক্তরা নেইমারকে ঘিরে ধরেন। কয়েক ঘণ্টা পর এস্তাদিও রেই পেলে (Estádio Rei Pelé) স্টেডিয়ামে সিআরবির বিপক্ষে কোপা দো ব্রাজিলের তৃতীয় রাউন্ডের ফিরতি ম্যাচে মাঠে নামার কথা ছিল সান্তোসের। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সান্তোস দলের সঙ্গেই মাসেইওতে ছিলেন নেইমার। 

এছাড়া সংবাদমাধ্যম সিএনএন ব্রাজিল (CNN Brasil) থেকে ২০২৫ সালের ২২ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ম্যাচটি নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন মাসেইওর এস্তাদিও রেই পেলে স্টেডিয়ামে কোপা দো ব্রাজিলের তৃতীয় রাউন্ডের ফিরতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিআরবি ও সান্তোস। চোট কাটিয়ে সান্তোস দলে ফেরা নেইমার ম্যাচে নেমেছিলেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। 

‘এআইডব্লিউএবিআর’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘সান্তোসটিভি’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া একই দৃশ্যের পুরোনো ভিডিওর স্ক্রিনশট

মেসির বিদায়ী ম্যাচ সামনে রেখে একই ভিডিও দিয়ে নেইমারের বুয়েনস আইরেসে (Buenos Aires) পৌঁছানোর দাবি অন্য দেশেও ছড়িয়েছে। গত ৬ অক্টোবর রেডিও ইতাচিয়াইয়া এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, একাধিক ওয়েবসাইট ও একটি টেলিভিশন চ্যানেল ভিডিওটিকে বুয়েনস আইরেসের একটি হোটেল থেকে মেসির বিদায়ী ম্যাচের জন্য নেইমারের বের হওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করে। কিন্তু ইতাচিয়াইয়ার যাচাইয়ে ভিডিওটি ২০২৫ সালের মে মাসে মাসেইওতে সান্তোসের সিআরবির বিপক্ষে ম্যাচের সময়কার বলে শনাক্ত হয়। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, নেইমার মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। 

মেসির বিদায়ী ম্যাচের দিন নেইমারের ব্রাজিলে থাকার তথ্য পাওয়া যায় সংবাদমাধ্যম সিএনএন ব্রাজিলের প্রতিবেদনেও। সিএনএন ব্রাজিলের ৬ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেদিন সাও পাওলোতে মেয়ে মাভির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নেইমার উপস্থিত ছিলেন।

তবে নেইমার মেসির বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষ্যে তাকে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। রেডিও ইতাচিয়াইয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রশংসা করেন সাবেক ব্রাজিল তারকা। 

অর্থাৎ, মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখতে নেইমার ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় গেছেন, এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ওই ঘটনার নয়। ভিন্ন সময় ও ঘটনার ভিডিওকে মেসির বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষ্যে নেইমারের আর্জেন্টিনা যাওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেখা যায়, বিডিস্পোর্টসটাইম নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছে। সংশোধনী আকারে একই ভিডিও পুনরায় পোস্ট করে মন্তব্যে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে তার বিদায় উপলক্ষ্যে বেনিনের বিপক্ষে ওই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

আরো কিছু লেখা