
একাধিক সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, নেপালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাস হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, নেপাল সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো সত্য নয়।
ফেসবুকে “কষ্ট” নামের একটি পেজ থেকে গত ৫ মে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “নেপালের নতুন আইন পাস ২৪ ঘন্টার মধ্যে হবে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৫ হাজার ৬০০ এর বেশি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। কমেন্টে দেখা যায় দাবিটিকে অনেকেই সত্য বলে মনে করছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই আইন বাংলাদেশে পাশ করা দরকার।” আরেকজন লিখেছেন, “নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।”

ফেসবুকের একাধিক (১ ,২, ৩, ৪) ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ থেকে দাবিটি পোস্ট করা হয়। এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম থেকেও দাবিটি পোস্ট করা হয়।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে নেপাল আইন কমিশন এবং নেপাল গেজেটের ওয়েবসাইটে এমন কোনো তথ্য আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হয়। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া নেপালের গণমাধ্যমগুলোতেও এমন কোনো সংবাদ খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব। অধিকতর যাচাইয়ের জন্য নেপালের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেপালফ্যাক্টচেক’-এর সম্পাদক উমেশ শ্রেষ্ঠার সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব।
তিনি জানান, ছড়ানো তথ্যটি মিথ্যা এবং নেপালফ্যাক্টচেক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উমেশ শ্রেষ্ঠা আরও বলেন, “নেপালের সংবিধানের ধারা ১৬ (২) অনুযায়ী নেপালে এমন কোনো আইন তৈরি করা যাবে না যেখানে অপরাধের সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকে।”

এছাড়াও নেপাল-ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল টেকপানার একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। উপরন্তু, নেপালের সংবিধান মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত এমন কোনো আইন প্রণয়নের অনুমতি দেয় না। তথ্য যাচাই নিশ্চিত করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেপাল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে এমন দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এছাড়াও, নেপাল মৃত্যুদণ্ড বিরোধী একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ।”
অর্থাৎ, নেপালের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডের আইন পাসের দাবিটি ভুয়া, নেপাল সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।