সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, রাজধানীতে টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ায় এনসিপি নেত্রীকে মারধর করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। রাশিয়ার কিরোভে এক কিশোরীকে তার সমবয়সী এক মেয়ের মারধরের দৃশ্য এটি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে একটি পেজ থেকে ৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরা এক ব্যক্তি একজন নারীর মুখে বেশ কয়েকবার ঘুষি এবং লাথি মারছে। ভুক্তভোগী দুই হাতে তার মুখ ঢেকে রেখেছেন। পোস্টে লেখা ছিল, “ঢাকায় টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ায় এনসিপি নেত্রীকে বেদম কে°লানি।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ১৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ৪২ বার শেয়ার করা হয়েছে। একশর বেশি ব্যবহারকারী পোস্টে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ফেসবুকের আরেকটি পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অনুসন্ধানে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ফ্ল্যাঙ্কস (flankes) নামের একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টের দুটি ভিডিও ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। গত ৫ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা ভিডিওগুলোর দ্বিতীয়টির দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল পাওয়া যায়। পোস্টের বর্ণনায় লেখা, “মাঝে মাঝে এই রাশিয়ানদের কোনো সহানুভূতিবোধ থাকে না…।” ওই অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় একটি মেয়ে আশেপাশের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অন্য এক মেয়ের মুখে লাথি মারছে এবং তাকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে।

একই ভিডিও গত ৪ সেপ্টেম্বর আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়। ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম অংশের বর্ণনায় বলা হয়েছে, “রাশিয়ার কিরোভ অঞ্চলের ভ্যাৎস্কিয়ে পোলিয়ানিতে এক মেয়ে লাফিয়ে উঠে দেয়ালের সঙ্গে ঠেসে ধরে অন্য আরেক মেয়েকে মারধর করেছে। কারণ, মেয়েটির বয়ফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে অন্য মেয়েটির কাছে চলে গিয়েছিল, কারণ সে দেখতে বেশি সুন্দর। মেয়েটি দুইবার ইটের দেয়ালের সাথে মাথায় তীব্র আঘাত পায় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।”
অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্চ করলে ‘আর্গুমেন্তি ই ফাক্তি’ (Аргументы и факты) নামের একটি রাশিয়ান সাপ্তাহিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাশিয়ার কিরোভে এক কিশোরী তার সমবয়সী মেয়ের মারধরের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় রাশিয়ান অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এসব ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অর্থাৎ, রাশিয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে করে সেটি ঢাকায় এনসিপি নেত্রীকে মারধরের ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

