একটি ঘরসদৃশ্য বস্তুতে আগুন জ্বলছে দেখে দুইজন নারী চিৎকার করে কাঁদছে, এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওর পোস্টে প্রচার করা হয়েছে, মুসলিমরা হিন্দুদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়।
‘ক্রিয়েটলি ইন’ নামের একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৭ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির বর্ণনা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের দ্বারা হিন্দুদের ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ভারত নীরব কেন?’’
১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে নারীদের বলতে শোনা যাচ্ছে, “এলাকার মানুষ মিলে আমাদের সাথে এগুলো করতেছে দেখেন, রাত ১২টা বাজে এখন আমাদের ঘর পুড়ে ফেলছে। আগুন ধরায় দিছে, কী রকম ষড়যন্ত্র।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটি ৩৮ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ৩ হাজারের বেশি রিপোস্ট করা হয়েছে।
এক্সের একাধিক অ্যাকাউন্ট (১, ২) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

অনুসন্ধানে কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে গত ৪ জুলাই আসমা আক্তার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিওর সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। পোস্টের বর্ণনায় লেখা, “কত বড় শত্রু আমাদের আসে পাশে বসবাস করে দেখেন ।”
অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসমা আক্তার নামের ওই নারী একজন কন্টেন্ট নির্মাতা। ফেসবুকে তার ২২ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। তিনি গত ৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং ঘটনা পরবর্তী দৃশ্য তুলে ধরে একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

‘আসমা আক্তার’ নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পোস্ট হওয়া মূল ভিডিওর স্ক্রিনশট।
যাচাইয়ে আরও জানা যায়, ওই আইডি থেকে তিনজন নারী মিলে নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করেন। তারা মূলত পাহাড়ে জীবনযাপন নিয়ে ভিডিও বানান। অ্যাকাউন্ট থেকে আরও জানা যায়, আসমা আক্তার খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। তার ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োতে লেখা, “পাহাড়ি কন্যা পাহাড়িদের নিত্য নতুন জীবন যাপন🛖🌱।”
অধিকতর যাচাইয়ে প্রোফাইল থেকে কয়েকটি ভিডিওর স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। এতে নাজমা আক্তার নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং আসমা আক্তার নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। সেখানেও গত ৪ জুলাই অগ্নিসংযোগের দৃশ্য এবং ঘটনার পরের একাধিক ভিডিও প্রচার করা হয়। কয়েকটি ভিডিওতে তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ভিডিওগুলোতে বাঁশের তৈরি একটি কাঠামো দেখা যায়, যা দুষ্কৃতকারীরা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আসমা, নাজমা এবং তানজিনা নামের তিনজন মিলে নিয়মিত কনটেন্টগুলো তৈরি করে থাকেন।
আগুন লাগার কারণ জানতে প্রোফাইলে থাকা ইমেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে আগুন লাগার মূল কারণ জানা যায়নি। তবে ভিডিওতে হিন্দুদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে বলে যাদের দেখানো হচ্ছে, তারা সনাতন ধর্মাবলম্বী নন।

