সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে “পাহাড়ি উপজাতি”দের ভয়ংকর বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়; এটি ইন্দোনেশিয়ার একটি ইউটিউব চ্যানেলের সাজানো নাটকের দৃশ্য।
গত ১৭ আগস্ট ফেসবুকের ‘মুসলিম বঙ্গ’ নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে বলা হয়েছে, “পাহাড়ি উপজাতিরা কতটা ভয়ংকর।” পোস্টে বাংলাদেশ হ্যাশট্যাগ লেখাও দেখতে পাওয়া যায়। ২৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্রিজের ওপর হেলমেট পরা এক বাইকার হেঁটে তার বাইকের দিকে যাচ্ছেন। এমন সময় চলন্ত বাইক থেকে একজন লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারী বাইকটি ছিনিয়ে নিতে গেলে আরও দুটি বাইককে দৃশ্যে দেখা যায়। একটি বাইক থেকে নেমে একজন হামলাকারীকে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখায়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং শেয়ার হয়েছে ৫৮০ বারের বেশি।
এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, “ব্যাং ট্যাম্পু” (Bang Tampue) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ আপলোড হওয়া একটি ভিডিওর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়। মূল ভিডিওটি ২০ সেকেন্ডের, আর ছড়িয়ে পড়া ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে প্রথম দৃশ্যটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করে দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়েছে।
চ্যানেলটি থেকে প্রায় একই স্ক্রিপ্টে তৈরি একাধিক ভিডিও আপলোড হতে দেখা যায় (১, ২, ৩)।
চ্যানেলের বিবরণীতে বাহাসা ভাষায় (ইন্দোনেশিয়ার সরকারি ভাষা) উল্লেখ করা হয়েছে, ভিডিওতে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো প্রকৃত কোনো বিপজ্জনক বস্তু নয়, নিছক খেলনা সরঞ্জাম। চ্যানেলের সব ভিডিওই সাজানো কনটেন্ট, কোনো বাস্তব ঘটনা নয়। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আইন ভঙ্গকারীদের সতর্ক করতে এবং মানুষকে সতর্ক থাকতে শেখাতেই এসব ভিডিও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। বিবরণীতে পুলিশকে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাংলাদেশের পাহাড়ি আদিবাসীদের কোনো দৃশ্য নয়, বরং ইন্দোনেশিয়ার একটি সাজানো নাটকের অংশ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উসকানিমূলক ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির শঙ্কা সৃষ্টি করে। ইতঃপূর্বে আদিবাসীদের নিয়ে একাধিক ভুয়া দাবি ছড়ালে, সেসব দাবি নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

