সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রতি রূঢ় আচরণ না করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে ভোলা–৩ আসনে জয়লাভের পর নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি ওই বার্তা দিয়েছিলেন।
ফেসবুকে “কুমিল্লা বরুড়া বঙ্গবন্ধুর সৈনিক” নামের একটি পেজ থেকে গত ১৬ আগস্ট একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা হয়, “ব্রেকিং নিউজ..বিদায়ের ঘন্টা বেজে গেছে ভারত আমেরিকা রাশিয়া চিনের চাপে ভাষা পরিবর্তন হয়েছে।” ভিডিওর ভেতরে লেখা, “রাষ্ট্রপতি হয়ে জামাত আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাকর্মীদের যা বললেন।”
২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বলতে শোনা যায়, “বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে অনুরোধ করব, তারা যেন আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলীয় বা জামাত ইসলামী বা অন্য কোনো দলীয় কোনো সমর্থকের সাথে যেন রুঢ় ব্যবহার না করে। কারো প্রতি যেন কোনো অন্যায় আচরণ না করা হয়। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দুর্নীতির সকল শিকর উপড়ে ফেলার চেষ্টা করব। কোনো মানুষের উপর কাউকে আমি অত্যাচার করতে দেব না।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে ৯৪২ বার, দেখা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার বারের বেশি।
ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, চ্যানেল আই নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “বিজয়ী হয়ে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে যে বার্তা দিলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।” ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটির ৪৪ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট পর্যন্ত অংশে মেজর হাফিজকে কথাগুলো বলতে শোনা যায়। ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের অংশের সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কিছু অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়। একই ভিডিও বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেলেও পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরের দাবি করে ছড়ানো হলেও, মেজর হাফিজ এই বার্তা গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোলা–৩ আসনে জয়লাভের পর নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

