যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারকের ওপর মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে হামলা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে ভিডিওতে বিচারককে মুসলিম বা কোনো ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। এছাড়া হামলার কারণও ভিন্ন।
‘দ্বীনের দাওয়াত’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ আগস্ট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি হঠাৎ বিচারকের বেঞ্চের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পড়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। এরপর আদালতের নিরাপত্তা কর্মী ও অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিরা মিলে আক্রমণকারীকে আটকানোর চেষ্টা করেন।
ভিডিওতে বিচারকের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা ও নেভাডা অঙ্গরাজ্যের পতাকা দেখা যায়। পেছনের দেওয়ালে নেভাডা রাজ্যের অফিশিয়াল সিল ও বেঞ্চের সামনের বিচারকের নাম মেরি কে হলথাস লেখা দেখা যায়। তাছাড়া স্ক্রিনের নিচে ডান কোণে দেখা যায় সংবাদ মাধ্যম ‘লাস ভেগাস রিভিউ জার্নাল’-এর লোগো ‘আরজে’।

ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “মুসলমানদের বেছে থাকার অধিকার নেই বলে বক্তব্য দিচ্ছেন তখন এক বীর ওঠে তার প্রতিকার দিয়েছে” (বানান অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি ১৬ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ১৩০ বার শেয়ার হয়েছে। এ ছাড়া আরও একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এসব পোস্টও হাজার খানেক বার দেখা হয়েছে।
কী-ফ্রেম সার্চে মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওর সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হুবহু মিলে যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লাস ভেগাসের একটি আদালতে বিচারক মেরি কে হলথাস প্রবেশনের আবেদন নাকচ করার পর আসামি ডিওব্রা রেডেন বিচারকের ওপর হামলা করেন। তিনি বিচারকের বেঞ্চের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পড়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং ঘুষি মারেন।

সিএনএন এ প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সিবিএস নিউজে প্রকাশিত ওই ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদন থেকে বিচারক ও আসামির মধ্যকার কথোপকথন শুনতে পাওয়া যায়। এতে মুসলিমদের সম্পর্কে বিচারক মেরি কে হলথাসকে কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে লাস ভেগাস রিভিউ জার্নাল-এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারির ঘটনা এটি।
অর্থাৎ, মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে আদালতে বিচারকের ওপর হামলার দাবিটি সঠিক নয়।

