“মোদি প্রশাসনের” নারী কর্মকর্তা মুসলিম যুবককে হেনস্তা করছেন, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, এটি একটি সাজানো দৃশ্যের, বাস্তব ঘটনার নয়।
নিজেদের সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রতি ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে টুপি পরা এক যুবককে চড় মারছিলেন এক নারী পুলিশ। পোস্টে লেখা, “মোদি প্রশাসনের নারী কর্মকর্তার হাতে মুসলিম যুবক হেনস্তার শিকার।”

এ পর্যন্ত পোস্টটি প্রায় ২৫০ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১৭ হাজার বারের বেশি। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “সলিড করে মেয়েটাকে চড়ালে ভালো হত।” আরেকজন লিখেছেন, “আপুটার ব্যবহার কুকুরের মতো।”
সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করে “অমিত দিক্সিত সোশ্যাল ম্যাসেজ” নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই ভিডিওটির সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ব্যক্তি, পোশাক, স্থান ও ঘটনার মিল পাওয়া যায়। এই ৫ মিনিট ৮ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওর শিরোনাম অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “পুলিশের সামনে শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে 😱😱 দেখুন।”

“অমিত দিক্সিত সোশ্যাল ম্যাসেজ” নামের ইউটিউব চ্যানেলটি বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব দেখতে পায়, চ্যানেলটি থেকে এ ধরনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এই নামে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও একই কনটেন্ট প্রচার করতে দেখা যায়। ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে এসব সাজানো ভিডিও সামাজিক সচেতনতামূলক কনটেন্ট হিসেবে প্রচার করা হয়। “পুলিশের সামনে শিক্ষককে মারধর করা”র ভিডিওতে যাকে শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে, একই ব্যক্তিকে অন্য এক ভিডিওতে পুলিশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অর্থাৎ, মোদি প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা এক মুসলিম যুবককে হেনস্তা করছেন দাবিতে ফেসবুকে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি সত্য ঘটনার দৃশ্য নয়।

