স্পেনে ঢুকে সব লন্ডভন্ড করছে মরক্কানরা, এমন দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করেছে এনপিবি নিউজ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি স্পেনের নয়, ফ্রান্সের।
এনপিবি নিউজ নামের একটি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজ থেকে গত ১ আগস্ট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “শহরজুড়ে তা’ণ্ড’ব চালাচ্ছে কারা?” ভিডিওতে লেখা, “স্পেনে ঢুকে সব লন্ডভন্ড করছে মরোক্কানরা।”

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং হাজার খানেক বার শেয়ার হয়েছে। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “মরোক্কান মানে তো মুসলিম তাই ওদের দ্বারা সবকিছু সম্ভব।” আরেকজন লিখেছেন, “সব কটা আরব দেশ অমানুষের খনি বটে।” কয়েকজন আবার ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মন্তব্য করেছেন।
একাত্তর টেলিভিশনের ইউরোপ প্রতিনিধি নূরুল ওয়াহিদের নাম-পরিচয় দিয়ে তৈরি একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিছু ফেসবুক পেজ (১, ২) থেকেও ভিডিওটি একই দাবিতে প্রচারিত হয়েছে।

একই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে ভারত থেকে পরিচালিত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও। ‘উত্তরপাড়া ন্যাশনালিস্ট বিজেপি ফ্যানস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “কোন দেশকে ধংস করতে হলে সেই দেশে ইসলাম ঢুকিয়ে দাও।” এই পোস্টটি তিন শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “উত্তর একটা গুলি।। সুট এন্ড সাইট।” আরেকজন লিখেছেন, “এই ভাইরাসের একটাই ঔষধ ইসরাইল।”
ভিডিওর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ‘ভিসেগ্রেড টোয়েন্টিফোর’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এর সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হুবহু মিলে যায়। নিজেদের সামাজিক মাধ্যম-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই অ্যাকাউন্ট ভিডিও প্রতিবেদনের ক্যাপশনে জানায়, “প্যারিসের বিজয় উদ্যাপন করছে তুলুস।” দক্ষিণ ফ্রান্সের এই শহরের নাম উল্লেখ করে ভিডিওতেও লেখা, “তুলুস ২০২৬।”

কিওয়ার্ড সার্চে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩১মে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) জয়ের পর গত ৩১ মে ফ্রান্সে সহিংসতার ঘটনা ঘটে— যার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর ফ্রান্সজুড়ে ফুটবল সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষের এই ঘটনায় চারশর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।
এদিকে উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল সেউতায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রবেশ শুরু হয় গত ৩০ জুলাই। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস আগেই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল ভিসেগ্রের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে।
অর্থাৎ, স্পেনে ঢুকে মরক্কানদের সব লন্ডভন্ড করার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ফ্রান্সের ভিন্ন ঘটনার। এর সঙ্গে সম্প্রতি স্পেনে মরক্কানদের অনুপ্রবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

