মৌ দাস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
False Claim of Attack on Modi’s Residence

দৃশ্য দুটি নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে হামলার নয়

মৌ দাস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে হামলা হয়েছে, এমন দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওতে ব্যবহৃত দুটি দৃশ্য ভারতের দুটি ভিন্ন ঘটনার। একটি ভিডিও পুনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের, অন্য দৃশ্যটি উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে চলতি অক্টোবরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের।

ফেসবুকে ‘নিউ সাইফুল’ নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে একসঙ্গে তিনটি ফুটেজ চলতে দেখা যায়। উপরের ফুটেজে কয়েকজনকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। নিচে একদিকের অন্য ফুটেজে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আর ডান দিকের ফুটেজে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “ও আমার প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেন, ভারতে খেলা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের মুসলমানরা জেগে উঠেছে। নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে গিয়ে সবাই হামলা করেছে। ইনশাল্লাহ মুসলমানদের বিজয় হবেই হবে।” এ সময় তিনি মুসলমানদের ভিডিওটি শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে হামলার দাবিতে ছড়ানো ভিডিও (বামে); সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনা (ডানে)

দাবির সত্যতা যাচাইয়ে এতে থাকা দুটি দৃশ্য থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। প্রথম দৃশ্যের ক্ষেত্রে ভারতের সংবাদমাধ্যম পুধারিতে ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃশ্যটি সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের। প্রতিবেদনের শিরোনাম ও বর্ণনা অনুযায়ী, পরীক্ষায় গ্রেস নম্বর দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রথম দৃশ্যের দৃশ্যগত মিল পাওয়া যায়।

নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে হামলার দাবিতে ছড়ানো ভিডিও (বামে); উত্তর প্রদেশে জ্ঞানের কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সমাজবাদী পার্টির কর্মী আটকের ঘটনা (ডানে)

ভিডিওর দ্বিতীয় দৃশ্যটি শনাক্ত করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে প্রোকেরালা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একতি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর প্রকাশিত ‘SP workers protest against CEC’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) কর্মীদের বিক্ষোভের ছবি রয়েছে।

একই ঘটনা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভ ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া এক বিক্ষোভকারীকে এক পুলিশ কর্মকর্তা কোলে তুলে রাস্তার অন্য পাশে থাকা পুলিশের বাসের কাছে নিয়ে যান। প্রতিবেদনটির সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতেও ঘটনাটি দেখা যায়। এই দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দ্বিতীয় ফুটেজের মিল রয়েছে।

অর্থাৎ, নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে হামলার ভুয়া দাবিতে ভিন্ন ঘটনার দুটি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে।

আরো কিছু লেখা